অপরাধীরা অপরাধীদের বিচার করে না

শনিবার, জানুয়ারি ৫, ২০১৯

ঢাকা : অপরাধীরা অপরাধীদের বিচার করে না মন্তব্য ক‌রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ব‌লে‌ছেন, যারা অপরাধ করে তারা অপরাধীদের বিচার করে না। একের পর এক নারী ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনে নারী সমাজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু উল্লাস থামে নাই।

শনিবার ৫ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সুবর্ণচরের গণধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ সব কথা ব‌লেন।

তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কাছে আমাদের বিচার চাওয়ার কিছু নাই। কারণ, আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা অপরাধ করে তারা অপরাধীদের বিচার করে না। একের পর এক নারী ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশের নারী সমাজ বিপদগ্রস্থ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারপরেও তাদের উল্লাস থামে নাই। তারা জোর করে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে নিজেরা উল্লাস করছেন জালিয়াতি ভোটের মাধ্যমে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা আজকে বিনা ভোটে জোর করে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের ভেতর অপরাধবোধ বলতে কিছু নাই। তারা সবাই অপরাধী।’

পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনাদের মা বোন আছে, আপনাদের বিবেক আছে, মানবতাবোধ আছে। সেই মানবতাবোধ থেকে আপনারা দেখবেন একজন সন্ত্রাসীও যেন পালাতে না পারে। সুবর্ণচরে এই নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কে আপনারা আইনের আওতায় আনবেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা। যার ভোট তার দেওয়ার অধিকার না। জালিয়াতি ভোট করে নতুন সরকার আসলো। সরকারের ক্ষমতা গঠন করতে না করতেই তারা পৈশাচিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিল। আজকে আমরা এখানে শুধুমাত্র একজন মায়ের ধর্ষণের বিচার দাবিতে আসছি। তাও তারা আমাদের এখানে দাঁড়াতে না করছে। আপনারা দাঁড়াতে পারবেন না। এ কোন দেশ, যে দেশে মানুষের কোনো কথা বলার অধিকার নাই। এখানে মানুষের প্রতিবাদের অধিকার নাই। তাই, সকলকে বলতে চাই, আপনার ঐক্যবদ্ধ হোন। আমাদের মা বোনরা যেন শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারে সেই সুযোগ করে দিন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, আমরা এখানে শুধু প্রতিবাদ করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এই সরকারের প্রশাসন আমাদের দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে চাইনি। সুবর্ণচরের পারুলের যে নিসংস গণধর্ষণ হল, তার প্রতিবাদের জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই পারুল ধানের শীষে ভোট দিয়ে মহাপাপ করেছে বলে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা শুনেছি, সেই ঘটনার সাতজন গ্রেফতার হয়েছে আমরা চাই তাদের ফাঁসি দেওয়া হোক। একটি ঘটনা ঘটলে সরকার আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে সেই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেটা যেন এবার না হয়। এবার যদি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হয়, তাহলে যারা ধর্ষিতা, তারা নিরাপদে থাকবে না এবং যারা ধর্ষক তারা মহা উৎসবে আরো ধর্ষণের লীলা খেলায় মেতে উঠবে। সরকারের কাছে আমরা অাহব্বান করব, সেই সুযোগ যেন তাদের আর না দেওয়া হয়।

নির্বাচন নিয়ে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন হল। এই নির্বাচনের প্রত্যেকটা মহিলা প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে সেই সাথে পুরুষ প্রার্থীদের উপরও। বিশেষ করে আমি আফরোজা আব্বাস, আমার উপর ১০ বার হামলার চেষ্টা হয়েছে সেটা আপনারা দেখেছেন।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার, শাহিদা রফিক প্রমুখ।