সরকার টিকবে না, জনগণ উচিত জবাব দিবে: রব

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯

ঢাকা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, ‘আমরা এবার নির্বাচনে গিয়েছি জনগণকে সাথে নিয়ে। জনগণ এইটার উচিত জবাব দিবে বলে আমি আশাবাদী। পৃথিবীর যদি স্বৈরাচারী সরকার চিরস্থায়ী না হয়ে থাকে এই সরকারও টিকবে না।’

ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকের পূর্বে বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য। তখন সেনাবাহিনীর, বিডিআর, পিপিআর, পুলিশ সিভিল প্রশাসন আমাদের পক্ষে ছিল। ৫৪ সালে সব যুক্তফ্রেন্টর পক্ষে ছিল। এবারে নির্বাচন হলো ঘরে শত্রু বিভীষণ। ঘরে নিজের ভাই এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আর অন্য বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পার্থক্য আছে। জনগণ সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে গায়ে জোরে কোনো নেতার ইচ্ছায় আন্দোলন হয় না।’

জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘আমি ৫৪ সালে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। এই পর্যন্ত সব নির্বাচন দেখেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন পুঁজিবাদী দেশ, গণতন্ত্রী ও সমাজতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন দেখেছি। ভোট ডাকাতি আমাদের দেশেও হয় কিন্তু এমন জঘন্যতম এবং বেহায়াপনা ডাকাতির নির্বাচন আমি দেখিও নাই পড়িও নাই। আমাদের দেশের জনগণ ভোট দিতে চেয়েছিল কিন্তু ভোট ২৯ রাতেই শেষ হয়ে গেছে। যেমন পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র শেষ, তেমনি ভোটের আগে ব্যালট পেপার শেষ। আমার এলাকায় কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে থেকেই গ্রেফতার, হুমকি, নির্যাতন অফিসে আগুন লাগানো শুরু হয়, আমার এলাকায় এবং কর্মীরা নির্বাচনে সময় বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে, আমরা আজ বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিবো। জনগণের দৃশ্যমান ঘটনা বিষয়ে আমরা মাঠে জনগণের মতামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ নিবো। তদন্ত করতে বলবো। বিশ্ববাসী এবং জাতিসংঘ, কমনওয়েলথের কাছে তুলে ধরবো। আমরা জনগণকে নিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলাম এবং জনগণ নিয়ে প্রতিহত করবো।’

তিনি অপর আরও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক বুদ্ধিজীবীরা বলেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভুল হয়েছে কিন্তু এবার কি প্রমাণিত হলো। আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠি নাই। অনেকে এখন প্রশ্ন করেন, আগে বুঝতে পারলেন নির্বাচন এমন হবে তাহলে গেলেন কেন এমন নির্বাচনে। এবার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত না থাকলে জনগণ বলতো আপনার আবার আগের মতোই ভুল করেছেন।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর বৈঠকটি শুরু হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেশের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

বৈঠকে পোলিং এজেন্ট দিতে না দেয়া, ব্যালট ভর্তি করা, ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়া, ভোটকেন্দ্র দখলে রাখা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পুলিশ দলীয় আচরণসহ নানা অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরছেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরে বাতিলের দাবিতে জোটের প্রার্থীরা বিকেল ৩টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনের গিয়ে স্মারকলিপি দেবেন।