জালিয়াতির প্রমাণ দিয়ে পুনঃভোট চাইলো ঐক্যফ্রন্ট

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯

ঢাকা: সদ্য শেষ হওয়া একাদশঢাকা: সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃভোট চেয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃভোট চেয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেন জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে- অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, ভোট জালিয়াতি, সরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নজিরবিহীনভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।

স্মারকলিপি দেয়ার পর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের কোনও স্তরেই নিয়ন্ত্রণ ছিল না নির্বাচন কমিশনের, একজন কমিশনারের বক্তব্যে তা প্রমাণ হয়েছে। দীর্ঘ দশ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আবারও বঞ্চিত করার দায় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মজার বিষয় হচ্ছে- ব্যালট পেপারের মুড়িতে সই বা টিপ সই লাগে ভোটারের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নেই। প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দায় ইসিকেই বহন করতে হবে। কেননা, নির্বাচনের আগের রাতেই ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের আগের দিন ও রাতে পোলিং এজেন্ট এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানারকম হুমকি দেয়া হয়, গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ক্ষেত্রেবিশেষে ভোটকেন্দ্রে আসলেও এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘প্রায় সব কেন্দ্রেই দুপুরের মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। পরে মধ্যাহ্নবিরতির নামে ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। নজিরবিহীনভাবে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। কোনও কোনও কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়, যা নজিরবিহীন।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখানোর জন্য নিজেদের লোক লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। নির্বাচনে নিয়োগ দেয়া হয় আাওয়ামী লীগের পদধারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। অনেক ভোটকেন্দ্রেই বিকেল ৪টার আগেই ভোটগণনা শুরু করা হয়। সারা দেশে জালভোটের মহোৎসব চললেও কোথাও একজন জাল ভোট প্রদানকারীকেও গ্রেফতার করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে মশকরা (উপহাস) করেছে। জাতিকে অন্ধকারে দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এজন্যই আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। সেইসঙ্গে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব ঠিক আছে। ইসিকেই তো দাবি জানবো, তারাই নির্বাচন করেছে। তারা (নির্বাচন কমিশন) শুধু স্মারকলিপি গ্রহণ করেছে। কোনও কথা নেই। শপথ নেয়ার প্রশ্ন আসে কোত্থেকে। আমরা তো ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।’

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পরবর্তী কী কর্মসূচি দেয়া হবে তা পরে জানানো হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব,গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত রায় চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।