শীতল বায়ুর সঙ্গে কুয়াশার প্রকোপ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৫.৭

বুধবার, জানুয়ারি ২, ২০১৯

ঢাকা : প্রায় সারা দেশেই শীতের দাপট অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার আরও কিছু নতুন এলাকায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। আগের দিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারও সেখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) পূর্বাভাসে দেখা যায়, প্রায় সারা দেশেই বিভিন্ন মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গোটা উত্তরাঞ্চলই শীতে কাবু। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল রংপুর বিভাগের। ওই বিভাগের প্রায় সর্বত্রই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ এবং শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বিএমডি সূত্র জানিয়েছে, হিমালয় সংলগ্ন হওয়ায় সাধারণত উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে। তবে পরিস্থিতি বেশি খারাপ পঞ্চগড়ের। গত বছর ৮ জানুয়ারি তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল, যা ৫০ বছরের মধ্যে ছিল দেশের সবচেয়ে কম।

এদিকে শীতের সঙ্গে বেড়েছে শীতল বায়ুপ্রবাহ ও কুয়াশার প্রকোপ। ফলে শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা আর দিনভর ঠাণ্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ। রাতে তা আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাইয়ের প্রকোপ ঘটে থাকে।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এরই মধ্যে শীতজনিত নানা রোগে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জনসাধারণকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে ‘মাঝারি’ মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা যদি ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে, তবে তা ‘তীব্র’ শৈত্যপ্রবাহ।

আর ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলে ‘মৃদু’ শৈত্যপ্রবাহ। এ হিসাবে দেশের বেশির ভাগ স্থানে এখন শৈত্যপ্রবাহ বইছে। বিএমডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপমহাদেশেীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এ কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। শীতের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার প্রকোপ বেড়েছে।