শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে কি বললেন দীপিকা? (ভিডিও)

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক : গত ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কঙ্কোনি ও সিন্ধি রীতিতে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। বিয়ের পর থেকে দীপিকা যে তার নতুন শ্বশুর বাড়ি ও নতুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশ খুশি তা তার চোখে মুখে স্পষ্ট। তবে শুধু দীপিকাই নয়, রণবীরও দীপিকাকে নিজের জীবনে পেয়ে বেশ খুশি তা তিনি বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এদিকে ফিল্ম ফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপিকাও রণবীরের সঙ্গে নিজের বিয়ে নিয়ে বলেন, “আমার এখন নিজেকে ভীষণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে হয়। যখন তুমি কোনো সম্পর্কে থাকবে তখনও ভীষণ চিন্তায় থাকবে। বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা সেভাবে থাকে না। কারণ, সবসময় সেটা বিয়ে পর্যন্ত নাও গড়াতে পারে। তবে এখন (বিয়ের পর) আমরা একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল। ১৪ নভেম্বর যেদিন আমাদের বিয়ে হল, রণবীর আমার হাত ধরলো, সেদিন থেকে আমরা একে অপরের প্রতি অনেক বেশি দায়িত্বশীল হয়ে পড়লাম।

বলিউডের ‘মাস্তানি’ আরো বলেন, তবে আমি বলছি না বিয়ে মানেই নিজের স্বাধীনতা চলে যায়। এখন ও যত রাত পর্যন্তই সিনেমার প্রমোশনে ব্যস্ত থাকুক, দিনের শেষে বাড়ি ফিরে আসে। আর ভোর ৪টায় বের হলেও ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরে আসে। প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কটা একপ্রকার, আর বিবাহিত জীবনটা প্রকার। বিয়ের আগে প্রেমিক-প্রেমিকা খুব বেশি হয়ে একসঙ্গে বেড়াতে যেতে পারে, আবার দিনের শেষে একে অপরের বাড়িতে ফিরে য়ায়। আর এখন আমরা দিনের শেষে একে অপরের কাছে ফিরে আসি। এখন জীবনটা বদলে গেছে, আমি এখন সন্ধ্যায় ওকে ফোন করি, ওর সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিনা জিজ্ঞাসা করি, তারপর ও কখন ফিরবে, রাতে কী খাবে এসব জিজ্ঞাসা করি।”

দীপিকা আরো বলেন, এর আগে মুম্বাইয়ে আসার পর থেকে আমি গত ১৫ বছর প্রায় একাই কাটিয়েছি। তাই এখন জীবনটা অনেক সুন্দর। রণবীরের সঙ্গে প্রথমে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে ভয় পেয়েছি, কারণ এর আগে বহুবার আমার বিশ্বাস ভেঙেছে, আমি ভেঙে পড়েছিলাম। তাই ২০১২ সালে রণবীরের সঙ্গে যখন আলাপ হল তখন বুঝেছিলাম আমাদের মধ্যে বিশেষ কিছু তো রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চাইনি, যদি আমি অন্য কারোর প্রতি আকর্ষিত হই। ভবেছিলাম রণবীরের প্রতি আবেগ রাখবো না, তবে ৬ মাস যেতে না যেতেই আমি জড়িয়ে গেলাম। ৬ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কে আমারা একে অপরের সঙ্গে খুশি, আমাদের মধ্যে কখনো এমন বড় কিছু নিয়ে ঝগড়া হয়নি, যে সম্পর্ক ভেঙে যাবে। যখন ছোটখাটো বিষয়ে মতবিরোধ হয়েছে, তখনো আমরা নিজেরা সময় নিয়ে সেটার সমাধান করেছি। অনেক ওঠা-পড়া ছিল সম্পর্কে। গত ৪ বছর আগে আমাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। আমি প্রথম থেকে একেবারেই নিরাপদ বোধ করতাম না। আমার আগের সম্পর্কগুলি থেকে আমার মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল যার খারাপ প্রভাব এই সম্পর্ক পড়ছিল, তবে রণবীর সবসময় আমায় বুঝেছে, প্রতি মুহূর্তে আগলে রেখেছে।”

বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু মুহূর্তে শেয়ার করতে গিয়ে দীপিকা বলেন, “আমার মা কন্যাদান করেন। সূর্য ওঠার পর মেহেন্দি লাগানো হয় আমার হাতে। সূর্যের সঙ্গে আমার ও রণবীরের একটা সম্পর্ক রয়েছে। আমরা দু’জনেই সূর্য পছন্দ করি। বিয়ের প্রতিটা অনুষ্ঠান ঠিকঠাকভাবে হয়েছে, কোনো কিছুতেই কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। বিয়ের পর সূর্যাস্তের শেষে রণবীর আর আমি আমাদের প্রিয় গান জোরে সাউন্ড দিয়ে শুনেছি।”

এখানেই শেষ নয়। রণবীরের পরিবার ও তার বাবা-মায়ের কথা বলতে গিয়ে দিপ্পি বলেন, “রণবীরের বাবার কাছে আমি ওনার মেয়ের মতোই। ওর মায়ের কাছে আমি বন্ধু, আবার মেয়েও। আমি আমার শাশুড়ি মা কে (অঞ্জু ভবনানী) আমার চরিত্রের ভালো ও খারাপ দুই দিকের কথাই বলতে পারি। রণবীরের বাবা ভীষণ ইমোশনাল, উনি একটুতেই ভেঙে পড়েন আর ওর মা সবকিছুকে শান্তভাবে সামলে নেন। ওনারা একেবারেই আমার বাবা মায়ের মতোই।”

দীপিকা বলেন, রণবীর যে আমাকে ভীষণ ভালোবাসে তা আমি সবথেকে বেশি অনুভব করেছিলাম, সম্পর্কের প্রথমে রণবীরের থেকে অনেক বেশি টাকা আমি আয় করছিলাম, তখন সেসব নিয়ে রণবীরের মধ্যে কোনো ইগো তৈরি হয়নি। ওর মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। ও যেটা মুখে বলতো সেটাই করত। ও আমার প্রতি সবসময় সৎ ছিল। সব কথা আমায় বলতো। কিছুদিন আগেও ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও যখন বলেছে ‘আমি ওকে আগলে রেখেছি’, এটা শুনে ও জেনে আমার ভীষণ আনন্দ হয়েছে। সূত্র: জি-নিউজ