কথা বলার ক্ষেত্রে ইসলামের সতর্কতা

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১, ২০১৯

ঢাকা : কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক ও সংযমী হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে ইসলাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুখের হেফাজত ও কথাবার্তায় সংযমী হওয়ার ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তিনি নিজেও এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক থাকতেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের সঠিক ব্যবহারের তথা হেফাজতের নিশ্চয়তা দিতে পারবে- আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিতে পারব।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- সে যা শুনে তাই (সত্যতা যাচাই না করে) বলে বেড়ায়।

হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে- অন্যথায় চুপ থাকে।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের সূরা বাকারার ৮৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ভাষায় কথা বলো।’ মানুষ যাতে কথা বলার সময় সংযত ও শালীন থাকে, ভালো ও উত্তম কথা বলে; সে কারণে আল্লাহতায়ালা নামাজ-রোজার মতো কথা বলার ক্ষেত্রে মানুষ যেন উত্তম ভাষায় কথা বলে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

কথা বলার ক্ষেত্রে কোরআনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো:

কথা বলার পূর্বে সালাম দেওয়া। -সূরা আন নূর: ৬১

সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা (কেননা প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়)। -সূরা ক্বফ: ১৮

সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা। -সূরা বাকারা: ৮৩

অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা। -সূরা আন নূর: ৩

কন্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা। -সূরা লুকমান: ১৯ ও সূরা হুজুরাত: ২-৩

বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলা। -সূরা নামল: ১২৫

সঠিক কথা বলা ও পাপ মোচনের দোয়ার উন্মুক্ত করা। -সূরা আহজাব: ৭১-৭২

গাধার মতো কর্কশ স্বরে কথা না বলা। -সূরা লুকমান: ১৯

উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা। -সূরা হামিম সাজদা: ৩৪

উত্তম কথায় দাওয়াত দেওয়া। -সূরা হামিম সাজদা: ৩৪

ঈমানদারদের কথা ও কাজ এক হওয়া। -সূরা সফ: ২

পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা। -সূরা আরাফ: ১৯৯

মেয়েরা পর পুরুষের সঙ্গে আকর্ষণীয় ও কোমল ভাষায় কথা না বলা। -সূরা আহজাব: ৩২

মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমতো এড়িয়ে চলা। -সূরা ফুরকান: ৬৩