স্বৈরতন্ত্রকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে: ড. কামাল

সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে একটা স্বৈরতন্ত্রকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েব অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি সবাইকে বলেছি ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করো আমরা মুক্ত হবো। মুক্ত হওয়া না। আমরা পুরোপুরি একই জিনিসের শিকার হচ্ছি। চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে একটা স্বৈরতন্ত্রকে। এটা একদমই আকাঙ্খিত ছিল না বাংলাদেশের ৪৭ বছর পরে। এই জিনিসটা বুঝতে হবে। আমি মনে করি এটা কল্পনা করা যায় না।’

এদেশের মানুষকে বেশিদিন স্বৈরতন্ত্রের অধীনে রাখা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যতই অস্ত্র, অর্থ ব্যবহার করা হোক, জালিয়াতি করা হোক, এদেশে স্বৈরতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যাবে না। মানুষকে বেশিদিন স্বৈরতন্ত্রের অধীনে রাখা যাবে না।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন আনবে তারা একদম অবাক হয়েছে দেখে, যে রেজাল্ট (ফল) বেরিয়েছে তাতে সরকার আবার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসছে, তার আবার সরকার গঠন (ফর্ম) করবে পাঁচ বছরের জন্য। সাতদিন আগেও দেশি বিদেশি কোনো পত্রপত্রিকা জনমত যাচাই করে কেউই বলেনি এ সরকার আবার নির্বাচিত হতে পারে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির যৌক্তিকতা নিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে কেউ কখনো তৃতীয় টার্ম পায়নি এখন পর্যন্ত। আর ইনি (শেখ হাসিনা) একবার তো একটার্ম করে পাঁচ বছর চালিয়েছে, এটাও খুবই বিতর্কিত। এটা তো ইলেকশন ছাড়াই হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেন পেল, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না পেলা না। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা মোটেই পেলো না। তারা (আওয়ামী লীগ) প্রতারক। তারা একেবারে গোল্ড মেডেল পাওয়ার মতো প্রতারণা করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে যদি কোনো গোল্ড মেডেল পাওয়া যায় তাহলে প্রতারণার জন্য এ সরকারকে পাওয়া উচিৎ।’

ভোটের মাঠে ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা কোথায় ছিল, এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, ‘আগের রাতে ভোট হয়ে গেছে। সেখানে ভোট দিতে গেছে বলেছে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি চাই আপনি নিজেই এটা পরীক্ষা করে বলেন সারা দুনিয়াকে।’

তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর পর তারা বাংলাদেশেকে এই জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে পাঁচ বছর পাবে, এরা তো মনে করে যে এই জিনিসটা বারবার করবে। আপনারা যদি এদেরকে ধরিয়ে শাস্তি না দেয়া হয়।’

নির্বাচনী প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ২৭ তারিখে রাজধানীতে একটা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম, দেয়া হয়নি। এই ধরণের যে স্বেচ্ছাচারীতা আমি জীবনে দেখিনি। কোনো স্বৈরাচার আগে অপজিশনের যে বড় মিটিং এই ভাবে অস্বীকার করে নাই।’

কামাল হোসেন অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি এতো বড় সন্ত্রাস, রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে কোনও দিন দেখি নাই। যেটা এবার দেখেছি, লক্ষ্য করেছি।’

ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি কী হবে, এমন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা দাবি করতে থাকব এই নির্বাচন একদমই মেনে নেয়া হয়নি। অর্থাৎ আরেকটা নির্বাচন হোক, একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এটা তো আমাদের দাবি ছিলই। ৭ দফা দাবি ছিল যে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। দুঃখের বিষয় হল যে এই বিষয়টি ২০০৮ সালে আমরা সবাই মিলে ইনক্লুডিং টু সরকারপ্রধান (শেখ হাসিনা) সমর্থন করেছি। এখানে সরকারি দলের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রায় অসম্ভব, সেই কথাটিকে উনি উপেক্ষা করে সেটাই করেছেন।’

৯৬ সালের বিএনপির বিতর্কিত নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আসার মতো আপনারা কিছু দাবি করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই’, জয় (সজিব ওয়াজেদ জয়) যেটাকে অসাংবিধানিক করেছে দেরিতে হলেও তার একটা বিচার হবেই এ দেশে। সে কেন বলল হঠাৎ করে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক, তাকে সাংবিধানিক আইন নতুন করে শিখতে হবে।’

মহোজোটের বিপরীতে ছোট্ট বিরোধীদল, এজন্য দেশের কী কী সমস্যা হতে পারে, এমন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েই গেছে। এর পুনরুদ্ধারের পথের বাধাগুলো আমাদের অতিক্রম করতে হবে।’

বিএনপির অন্তঃকলহ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমার কিছু বলারও নাই, আমি তো বিএনপি করিনা, তাদের ভিতরের কথাগুলো আমি জানিনা। হতেও পারে।’

তিনি আর বলেন, ‘মানুষের মাঝে তো ঐক্যমত লক্ষ্য করেছেন। পত্র-পত্রিকা দেখলে দেখবেন কীভাবে পরিবর্তনের জন্য সারাদেশ এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিল।’

বিএনপি জামায়ত নেতাদের প্রার্থী করেছে বলে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করলো কিনা, এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, ‘না, তারা ২২টি সিট দিয়েছে, এটা পরে জানা গেল। ৩০০’র মধ্যে ২২টার জন্য এমন রেজাল্ট হবে এটা কোনও যুক্তিযুক্ত কথা না।’