একজন লিস্টে টিক দিচ্ছে, কয়েকজন সিল মেরে বাক্সে ভরছে

রবিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ঢাকা : সকাল সাড়ে ৮টা। বরিশালের কাউনিয়া ব্রঞ্চ রোড এলাকায় মাতৃ মন্দির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। বাইরে ২০-২৫ জনের লাইন। কিন্তু কেউ নড়ছে না। ভেতরে কোনভাবে ঠেলে ঠুলে গিয়ে বুথের সামনে যেতেই চমকে উঠতে হল।

এলাকার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি যুবককে আনসারের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। জিজ্ঞাসা করতেই তিনি হেসে বললেন ‘এইতো’। বুথে ঢুকেই আরেকবার চমক। বুথের ভিতের ৮-১০ জন আওয়ামী লীগের লোক।

বিএনপির এজেন্টের চিহ্ন নেই। একজন ভোটার লিস্টে টিক দিচ্ছে। অপর কয়েকজন দ্রুত তা সিল মেরে বাক্সে ভরছে। মাত্র ১৫ মিনিটে একটি বই শেষ করা হল চোখের সামনে। এরপর একজন ভোটারের হাতে কালি মাখলেন পোলিং অফিসার। দিলেন ব্যালট। কিন্তু মুহুর্তে তা ছিনিয়ে নিয়ে অপর এক নেতা বাক্সে ভরে দিলেন।

তারপর বললেন যান, ভোট হয়ে গেছে। একই চিত্র কাউনিয়া এলাকার প্রায় সব কেন্দ্রে। লোকমুখে অবস্থা বুঝতে পেরে ভোটাররা ভোট দিতে বের হচ্ছেন না। ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক জানালেন একই চিত্র হালিমা খাতুন স্কুল কেন্দ্রে। বাইরে সুনসান। চ্যানেলের জন্য একটি লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা নড়ছে না। ভিতরে চলছে ভোট উৎসব। কোথাও কোন ঝামেলা নেই সব সুনসান।

এইতো গেল বুথের চিত্র। মোটরসাইকেল চলাচল ২৮ ডিসেম্বরের রাত থেকে বন্ধ। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ১৫-২০টি মটর সাইকেলের বহর ছুটছে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র। সামনে শুধু নৌকার স্টিকার। এভাবে ৫-৬টি বহর চোখে পড়ল সবার। সাধারণের ভোট কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে হেঁটে।