ফাঁকা মাঠ নেই, তাই ‘নিয়ন্ত্রিত ভোটে’ ক্ষমতা চায় আ.লীগ: বাম গণতান্ত্রিক জোট

শনিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮

ঢাকা : ২০১৪ সালের মতো ফাঁকা মাঠে গোল করার সুযোগ না পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবার প্রশাসনকে ব্যবহার করে সন্ত্রাস, হামলা, মামলা, হুমকি-ধমকি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিয়ন্ত্রিত ভোটে’ আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার আয়োজন সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতাদের।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পুরানা পল্টনে সিবিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক ও জোটের অন্যতম সমন্বয়কারী কমরেড শাহ আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সঠিক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। অংশগ্রহণমূলক হলেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয় না।’

শাহ আলম বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বারবার আপত্তি-অভিযোগের পরও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশন এখনও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। বরং সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে তারা তৎপর।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে বলেও অভিযোগ বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতাদের।

একইসঙ্গে নেতৃবৃন্দ ক্ষমতাসীনদের এই ‘নীলনকশা’ প্রতিহত করতে জনগণকে সরব হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসি নিজেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে কমরেড শাহ আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে হাসপাতালগুলোকে জরুরি সেবার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এর মানে কী দাঁড়ায়? এতে করে জনমনে ভীতি আর আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোটকেন্দ্র যেতে চায় না।’

ভোটে সেনা দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জনগণ মনে করেছিল। কিন্তু ২৪ তারিখ সেনা মোতায়েনের পরও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। সব জায়গার গ্রেফতার, হামলা-মামলা চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক ও গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।