ইনশাল্লাহ্, বিজয় আমাদের খুবই সন্নিকটে: নোমান

শনিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮

ঢাকা : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, খুলশী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান।

এক বিবৃতিতে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭০ সালের ২০ ফ্রেব্রুয়ারি স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী বক্তব্য দেয়ার কারণে জেনারেল ইয়াহিয়ার সামরিক আদালত আমাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০টি বেত্রাঘাত ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল। আমি সারাজীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। ১০ বছর ২ মাস মন্ত্রী ছিলাম। দেশের এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করেছি।’

নোমান আরও বলেন, ‘২০০৮ সালেও আমি এই এলাকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তখন আমি অসুস্থ থাকায় মাত্র দু’দিনের প্রচারণায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ ভোট পেয়েছিলাম। তাছাড়া আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে এক তরফা ভোট কেড়ে নিয়েছিল। বিগত ১০ বছর আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। আপনাদের সুখে-দুখে এই এলাকায় ছুটে এসেছি।’

বন্দরনগরীর এই হেভিওয়েট নেতা বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে পুলিশি বাধা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের অনেকের কাছে স্বশরীরে ভোট প্রার্থনা করার জন্য আসতে পারিনি। বিএনপি নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও সভা-সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার কারণে আমি স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে

বাধাগ্রস্ত হয়েছি।’

চট্টগ্রাম-১০ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য আমি পাল্টাপাল্টি কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করিনি। এমনকি প্রতিপক্ষ আমার পোস্টার ও ব্যানার অনেক জায়গায় লাগাতে দেয়নি, আবার অনেক এলাকায় ছিঁড়ে ফেলেছে। আমি জানি পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে স্বাভাবিক প্রচারণা চালাতে না পারলেও ধানের শীষ এবং আমি আপনাদের মনে অনেক আগে থেকেই স্থান করে নিয়েছি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আশা করি আপনাদের সাথে আমার সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারার বিষয়টি আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’

এ প্রসঙ্গে নোমান বলেন, ‘আপনাদের একটি ভোটের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। খুন, গুম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অবসান হবে এবং গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হবে। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকালে আপনারা প্রত্যেকে আপনাদের পরিবারের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং যারা ছাত্র-যুবক আছেন তারা ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনাদের দেয়া ভোট চুরি করে কেউ ফলাফল পাল্টিয়ে দিতে না পারে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের খুবই সন্নিকটে। আল্লাহ হাফেজ।’