জনগণ জেগে উঠছে, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে: রিজভী

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

ঢাকা : জনগণ ভয়কে জয় করে জেগে উঠছে, হামলা নির্যাতনকে রুখে দিচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘শুধু চর নয়, নির্বাচনে নদীসহ চর দখল করবে বলেই জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বর্তমান শাসকগোষ্টী শুরু করে প্রায় অনেক দিন থেকেই। সেইজন্য বানোয়াট মামলা সাজিয়ে নির্বাচনের প্রায় বছর খানেক আগেই সাজা দিয়ে দেশনেত্রীকে বন্দি করা হয়েছে। কারণ রাষ্ট্রশক্তি সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়। প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত কারো টু শব্দ করার উপায় নেই। টু শব্দ করলে পরিণতি কি হবে তারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা। সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে।’

শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘রাজয় বুঝতে পেরে নাশকতার পরিকল্পনায় বিএনপি’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সর্বজনবিদিত যে, আওয়ামী লীগ এমন দল যেটি একটি উন্নতমানের মিথ্যা প্রডাকশন কেন্দ্র। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই-বিএনপি মহাসচিবের গাড়ি বহরে হামলা করেছে কে? বাবু গয়েশ্ববর চন্দ্র রায়কে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে কে? ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করেছে কে? রোমানা মাহমুদকে গুলি করেছে কে? হাবিবুর রহমান হাবিবকে আপনি ভালভাবেই চেনেন, তাকে হত্যা করার জন্য তার শরীরে ছুরি ঢুকিয়েছে কে? মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস, ড. মঈন খান, মওদুদ আহমদ, মেজর হাফিজ, হাসিনা আহমেদের মিছিলে হামলা করেছে কে? শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর ওপর হামলা চালিয়েছে কে? হাফিজ ইব্রাহিম এর ওপর হামলা করেছে কে? ধানের শীষের নবীন প্রার্থী ডা. সানসিলা প্রিয়াংকার ওপর হামলা চালিয়েছে কে?’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে ধানের শীষের শতাধিক প্রার্থীর ওপর রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে? এখনও বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ আছেন। গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদকে হত্যা করেছে কে? যারা এসব সহিংস অপকর্মে লিপ্ত তাদেরকে কি শান্তির বার্তাবাহক বলতে হবে?’

‘ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা তার বাসা ঘিরে রেখেছে। অথচ নৌকা মার্কার প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা গণমিছিল করেছেন। চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ। কেনাকাটা করতে বাজারে লোক যেতে পারছে না। বাসায় যতটুকু আনাজপাতি ছিল সব শেষ। আজ থেকে তাকে না খেয়ে থাকতে হবে। গতরাত ৩টায় তার বাসায় র‌্যাব ঢুকে সবকিছু তছনছ করেছে। গতরাত দেড়টায় বরিশালের গৌরনদীতে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রার্থীর নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আপনার নৌকা মার্কার প্রার্থী হাজী সেলিম রাস্তা বন্ধ করে পথসভা করাকে আপনি কি বলবেন? সে বিষয়ে আপনি চুপ কেন? বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা কি শান্তি মিশনের কাজ, নাকি সেটিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে, তা আপনার কাছ থেকে জানতে চায় জাতি।’

রিজভী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডারদের গুন্ডামিতে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রামে-গ্রামে সশস্ত্র মহড়া চলছে। সারা দেশে এখনও ভীতিকর অবস্থা বিদ্যমান। সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখেছেন সিইসি। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। এগুলো সবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় এবং সিইসির তত্ত্বাবধানে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘জেলায় জেলায় বেপরোয়া গ্রেফতার অভিযানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করা হচ্ছে। আর আপনি বলছেন-বিএনপি নাশকতা করছে। নাশকতাকারীদের ট্রেনিং সেন্টার তো আওয়ামী লীগেই বিদ্যমান? বিগত ১০ বছরে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, ব্যাংক-বীমা খেয়ে ফেলার পরও ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনাকে বলছেন আপনি বিশ্বের তিনজন সৎ ব্যক্তির একজন। ১/১১-তে ওবায়দুল কাদের আপনাকে নিয়ে কি বলেছিলেন? সেগুলো তো এই তথ্য প্রযু্িক্তর যুগে শোনা যায়। সরাসরি লেনদেনের বিষয়ে কত কথাই ছিল সেখানে। শেখ সেলিম সাহেব, মরহুম জলিল সাহেব সেসময় কি বলেছিলেন? সেটিও তো সবার জানা। ওবায়দুল কাদের সাহেব রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোপাট হলো, সেগুলোর দায় কি প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারবেন। অবশ্য আপনি প্রধানমন্ত্রীকে সৎ উপাধী দিয়ে আপনার পদের নিশ্চয়তা থাকবে ঠিকই, কিন্তু এরকম কথা বলে আপনি জাতির কাছে হাস্যকর পাত্রে পরিণত হয়েছেন।’

তিনি জানান, গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর হতে গতকাল ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ১০৩২৯ জন নেতাকর্মী, গায়েবি ও মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৮৪৪টি। মোট হামলার সংখ্যা ২৮৯৬, মোট আহতের সংখ্যা ১৩২৫২ জন, মৃতের সংখ্যা ৯ জন। শুধু গতকালই বিভিন্ন জেলায় বানোয়াট মামলা দায়ের হয়েছে ৩৮টি, গ্রেফতার করা হয়েছে ১১২৭ জন নেতাকর্মী, হত্যা করা হয়েছে ১ জনকে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।