প্রায় ১২১ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নিয়েছে কেয়া কসমেটিকস

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

ঢাকা : এমনিতেই ঋণের ভারে ন্যুব্জ পূঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেয়া কসমেটিকস। এর মধ্যে তারা বিদেশ থেকে স্বল্প মেয়াদে মোট ১২০ কোটি ৮৫ লাখ ২ হাজার ৫০৪ টাকা ঋণ নিয়েছে।

কোম্পানিটির ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০১৮ শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ মোট ৮৫৭ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮৫৯ কোটি ৮৫ লাখ ১৩ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ৮০ কোটি ৯৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৪ টাকা।

এদিকে ঋণের চলতি দায় দেখানো হয়েছে মোট ৮৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ টাকা। চলতি অংশ ৩২ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং শেয়ারহোল্ডার্স ইক্যুইটি ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৩৬৯ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানির শেয়ার মূলধন, ক্যাপিটাল রিজার্ভ এবং রিটেইনড আর্নিং রয়েছে।

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি ব্যাংক ঋণের সুদ হিসেবে ১২৩ কোটি ৬১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৩ টাকা পরিশোধ করেছে। এর আগের বছর ৮১ কোটি ৫৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা ঋণের সুদ পরিশোধ করেছিল। দেখা যাচ্ছে সুদের কারণে ফাইন্যান্স কস্ট বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে।

জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে কোম্পানিটির কসমেটিক ডিভিশনের নামে রয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্সের কাছে ৩২ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৭০ টাকা।

নিট কমপোজিট ডিভিশনের নামে ঋণ রয়েছে ২৮৫ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯০ টাকা। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের ৯৪ কোটি ২৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৫১ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৩ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ৫১৭ টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের ১৫৭ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৪২২ টাকা।

কটন ডিভিশনের নামে ঋণ রয়েছে ২৭৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৯ টাকা। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের ৭০ কোটি ৬২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৭৮ কোটি ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ৩০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩০ টাকা।

স্পিনিং ডিভিশনের নামে ঋণ রয়েছে ২৬০ কোটি ৩ লাখ ৫৩ টাকা। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৬ টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংকের ১০৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪০ কোটি ১৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮ টাকা। পূবালী ব্যাংকের কাছে ৩৬ কোটি ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯১ টাকা। ব্যাংক এশিয়ার ১৬ কোটি ৯৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৩৫ টাকা এবং স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ঋণ রয়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৯ টাকা।

আর এসব ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটির সকল প্রকার স্থাবর সম্পদ মর্টগেজ রাখা হয়েছে। ঋণের সুদহার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ।

এছাড়া স্বল্প মেয়াদি ঋণ ৮৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকার মধ্যে কসমেটিকসের ৪১ কোটি ৪১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৬ টাকা। নিট কমপোজিট ডিভিশনে ২২১ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ টাকা। কটন ডিভিশনের ৮৭ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৩ টাকা। স্পিনিং ডিভিশনে ৪৮৯ কোটি ৭৬ লাখ ৮ হাজার ৪১৬ টাকা।

এরআগে চলতি বছরে সোনালী ব্যাংক ঋণ ও সুদ বাবদ বকেয়া ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা আদায়ের জন্য কোম্পানিটির সম্পদ নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয়।

আলোচিত হিসাব বছরে কোম্পানিটির টার্নওভার হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১৮৯ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৯১ কোটি ৯৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর আগের বছর টার্নওভার হয়েছিল ১ হাজার ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

৩০ জুন, ২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.২১ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২.০১ টাকা।

ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১টায় ফেক্টরি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৭ সালের শুরুতে কোম্পানিটি ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নিট কম্পোজিট ও স্পিনিং মিল সম্প্রসারণ করেছে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠান গত ১৮ ডিসেম্বর পাবলিক মার্কেটে ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করবেন। তার কাছে কোম্পানিটির মোট ৩১ কোটি ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৫১০টি শেয়ার রয়েছে।