প্রচার প্রচারণা করতে না পেরেও জয়ের প্রত্যাশা ধানের শীষের প্রার্থীর

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রচার প্রচারণা করতে না পেরেও জয়ের প্রত্যাশা করছে বরিশাল ৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জে এম নুরুর রহমান। ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ভোট চেয়ে নির্বাচনে গনভোটে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিজলা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ঐক্য ফ্রন্টের মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রার্থী হন তিনি। শুরু থেকেই সরকার দলীয় নেতাকর্মীর চাপে প্রচার প্রচারণা করতে ব্যহত হন। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি।

উল্টো দলীয় নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার ও পুলিশী হয়রানির শিকারে আতংকিত হয়েও শুধু মনোবলের জোড়ে এখনো গনভোট দাবী করছেন।তিনি আরও বলেন, ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় দাড়াতে পারেন নি। ১৯ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে বরিশাল ৪ আসনের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে গনসংযোগ করার জন্য যান তিনি।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফসার হোসেন আলমের বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করে বন্দর এলাকায় গনসংযোগে নামেন।এসময় আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে তাকে গণসংযোগ করতে বাধা দেয় । তিনি রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তুলে প্রতিবাদ করলে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মোল্লা, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির জোমাদ্দার, ছাত্রলীগ নেতা শাকিল সহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে তার পা ভেঙে দেয়।

তার মোবাইল ও ঘড়ি এবং নগদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাড়াতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে দলীয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।আফসার হোসেনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট করে নেয়।

খবর দেয়া হলে মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশ দুই ঘন্টা পর এসে প্রার্থী নুরুর রহমানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এব্যাপারে মামলা করতে চাইলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ উল্টো আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের পক্ষ নিয়ে তার পক্ষের লোকজনকে গ্রেপ্তারসহ হুমকি ধামকি দিচ্ছে। পংকজ নাথকে প্রচার প্রচারণা করতে দিলেও তার নেতাকর্মীকে প্রচার করতে দিচ্ছেনা এবং সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষাও করছেনা।

তিনি শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী হওয়ার পরেও তার ওপর হামলা চালানোই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ ঘৃণিত ও অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে হিজলা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের হামলা মামলা করে প্রচার প্রচারণা করতে দিচ্ছেনা।

তারা একচেটিয়া ভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। তার নির্বাচনী এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মী, সমর্থকদের হুমকি ও অত্যাচার করে বাড়ি ছাড়া করেছে।

কিছুদিন আগে আসন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হিজলা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক দেওয়ান মোঃ মনির হোসেন,উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সভাপতি অধ্যাপক ফখরুল আলম সবুজের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ইউসুফ ফকির, বড়জালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ইয়ামিন রাড়ী, হিজলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদল নেতা গাজী সাইদুল ইসলাম, বড়জালিয়া ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির দেওয়ান, যুবদল নেতা রিপন মোল্লা, ইউনিয়ন তাতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন কাজী,যুবদল নেতা জামাল হোসেন, তাতীদল ওয়ার্ড সভাপতি দুলাল হোসেন সহ অনেক নেতাকর্মীকে মারধর দিয়ে আহত বানায়।

তারা মেমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর করে এবং হিজলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্জ্ব আব্দুল গাফফার তালুকদারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

নির্বাচনী এলাকা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয় দখল করে পঙ্কজ দেবনাথের ব্যানার টানিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রুপান্তরিত করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।আওয়ামী নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে আরও আহত হন উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও চর এককরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর শিকদার, চাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমীর দেওয়ান, বিএনপি নেতা শাহাবুদ্দীন আকন, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী ও বিএনপি নেতা আনোয়ার বেপারী। এসব ঘটনার পরেও মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।

এজন্য তিনি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসির বদলী দাবি সহ রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি নির্বাচনী প্রচার করতে জীবনের নিরাপত্তা সহ প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান আবেদন গ্রহণ করে তাকে সহায়তা করার আশ্বাস দিলেও তেমন কোন উপকার পাননি বলে জানান নুরুর রহমান। আগেও রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল দলীয় নেতাকর্মীর সংবাদ সম্মেলন সব বিফল হয়ে যায়। শারীরিক ভাবে মোটামুটি সুস্থ হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর তার নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান।

তার যাওয়ার খবর পেয়েই আওয়ামী লীগ প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের লোকজন হামলা করার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে তিনি মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করে নিরাপত্তা দাবী করেন। থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা প্রকাশ করে তাকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। তিনি বরিশালে ফিরে আসেন।

২৭ ডিসেম্বর মিছিলের দিন থাকলেও তিনি ভোট চাইতেই যেতে পারেন নি।নেতাকর্মীরা সবাই মুঠোফোনের মাধ্যমেই পরিচিতজনদের কাছে ধানের শীষে ভোট দাবী করেই প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তিনিও একই কায়দায় সকলের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।একই সাথে ৩০ তারিখ গনভোট হলে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে প্রত্যাশা করেন।