নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা আশা করা দুরূহ: ড. কামাল

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

ঢাকা : গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের ‘নির্লজ্জ’ পক্ষপাতমূলক আচরণের পর তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কার্যকর ভূমিকা আশা করা দুরূহ।

এরপরও ৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষ জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের ঐক্যবদ্ধ জনগণ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যেকোনো গণবিরোধী নীলনকশা রুখে দেব। তিনি বলেন, জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যান। পছন্দের মার্কায় ভোট দিয়ে নিজেদের মালিকানা নিশ্চিত করুন এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।

সেনাবাহিনী মাঠে নামার বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নামলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে। কিন্তু নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

নির্বাচনে সমান সুযোগের কথা জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের বাকি আর দুই দিন। এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দৃশ্যমান হয়নি। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমেরিকাসহ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দিলেও ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বের কৌশল নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি নীলনকশা বাস্তবায়নের অপকৌশল হিসেবে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের ওপর যাতায়াতসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নিয়ে জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র এক জোট হয়ে বাংলাদেশে কার্যকর গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কাজে জড়িত রয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কামাল হোসেন বলেন, পুলিশের সাহায্যে নৌকার কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী মাঠে নামতে, পোস্টার লাগাতে এবং লিফলেট বিতরণ করতে দেয়নি।

পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় নৌকার কর্মীরা রাতে ধানের শীষ কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় এবং শারীরিক নির্যাতন করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আর্থিকভাবে সচ্ছলদের ছেড়ে দেয় এবং বাকিদের আটক করে নিয়ে যায়।

ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন প্রার্থীসহ প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো নির্বাচনে ভোট প্রদানকে একটি উৎসব মনে করে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনগণ এ ‘ভোট উৎসব’ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ‘ভোট উৎসবে’ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে।