তফসিলের পর বিএনপির ৭ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত বিএনপির প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ৬ হাজার ৮৫৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬৯টি মামলা হয়েছে, এতে এজহারভুক্ত জ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৬৩ জনকে আর অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৫৮ জনকে। তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেদের ঘর, গাড়ি, সম্পদ ও মানুষ পুড়িয়ে এর দায় চাপিয়েছে বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর।

প্রচার মাধ্যমকে কব্জা করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ঢালাওভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তারা এসব মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু যেকোনো নাশকতা ঘটানোর পরেই ধরা পড়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী নেতারা যে নিজেরাই নাশকতা করে নিজেদের গাড়ি পুড়িয়েছেন, মানুষ পুড়িয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপিয়েছেন, সেগুলো আওয়ামী লীগের আর এক নেতা ফাঁস করেছেন। অথচ সেগুলোকে আড়াল করে একচেটিয়াভাবে গণতন্ত্রকার্মী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন অন্যান্য মন্ত্রী-নেতারা যতোই গণমাধ্যমের প্রচারের সব আলো নিজের দিকে টানুন না কেন, তাতে সর্বনাশা অপকর্ম ঢেকে রাখতে পারবেন না।

আসলে এদের চোখে চিরকালীন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন, তাই মানুষের রক্ত ঝরাতে চাচ্ছে, এমনকি নিরীহ মানুষকেও আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে এর দায় বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য তারা অন্তর্ঘাতের ভয়ঙ্কর চক্রান্তে মেতেছে।

আর এটিরই বর্ধিত প্রকাশ দেখা গেল ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক চুয়াডাঙ্গায় সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে। আবারও প্রমাণিত হলো-ক্ষমতাসীনরা মিথ্যা জয়ের অহংকার দেখানোর জন্য অন্তর্ঘাত করবে। ওরা নিজেরাই পুলিশ-র্যাবকে গুলি করবে, গরিব মানুষের বাড়িঘর, বাজার, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে ফেলবে, আর এগুলো তাদের কিছু আজ্ঞাবাহী গণমাধ্যমে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে ঢাক-ঢোল পেটাবে।

বিএনপির এই মুখপাত্রের অভিযোগ, দেশব্যাপী ছাপাখানায় হামলা করে ধানের শীষের কোন পোস্টার থাকলে ছিনিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ছাপাখানার মালিক ও কর্মচারীদের মারধোর করা হচ্ছে ধানের শীষের কোনো পোস্টার ব্যানার ছাপা অথবা তাদের ছাপাখানায় থাকলেও।

ঢাকার ফকিরাপুল এলাকায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা সকল ছাপাখানায় গিয়ে খুঁজে খুঁজে দেখছে কারা ধানের শীষের পোস্টার ছাপাচ্ছে। তাদের ধরে নিয়ে মারপিট করে মারাত্মক আহত ও জরিমানা করছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও হুমকি ধমকি দিচ্ছে ছাপাখানার মালিকরা যদি ধানের শীষের পোস্টার ছাপায় তাহলে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ বিভিন্ন আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে জানিয়ে রিজভী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বিএনপি ও অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।