উৎসবের আগে ত্বকের যত্নে করণীয়

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

লাইফস্টাইল ডেস্ক : যে কোনো উৎসব অথবা অনুষ্ঠানে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখাতে কয়েকদিন আগে থেকেই রূপচর্চায় নজর দেয়া উচিৎ। তাহলে উৎসবের দিনে সাজটাও ভালো হয়। তাই প্রয়োজন ত্বকের সঠিক যত্ন।

তাই সম্ভব হলে দিনে কয়েকবার পানি দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। এছাড়া প্রত্যেকবার গোসলের পর মুখে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ও বাইরে থেকে ফিরে ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে বেসন ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের মরা কোষ দূর করতে সপ্তাহে দুইবার স্ক্রাব করুন। ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ক্রাব করতে চাইলে চিনি, লেবুর রস, অলিভ অয়েল ও চালের গুড়া দিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন।

ভাজা-পোড়া খাওয়া যতটা সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলুন। এর বদলে খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের ফল রাখুন। কেননা, আপনার ত্বককে সজীব রাখবে। অনেক সময় চোখের চারপাশ কালো হয়ে যায়। এটি দূর করার জন্য আলু বা শসার রস তুলাতে নিয়ে সেটি ৩০ মিনিট রাখুন। ঠোঁচের কালো দাগ দূর করতে কাঁচা দুধ ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে ঈদের আগে ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে ব্লিচ করে থাকেন। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে এটি করা যায়। ২ টেবিল চামচ কমলালেবুর রসের সাথে এক চিমটি কাঁচা হলুদ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সপ্তাহ একদিন ব্যবহার করলে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

স্পর্শকাতর ত্বক হলে ব্যবহার করতে পারেন ভেষজ ফেসওয়াশ। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন আপনার ত্বকের সঙ্গে খাপ খায় এমন কোনো ফেসওয়াশ দিয়ে। এরপর ব্যবহার করুন ফেসপ্যাক। ঘরেই তা বানাতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ১ টেবিল চামচ উপটান+১ চা চামচ টকদই+১ চা চামচ দুধের সর বা দুধ। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য ১ টেবিল চামচ উপটান+১ চা চামচ টকদই+১ চা চামচ লেবুর রস। এগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। পুরোটা শুকাবেন না, অর্ধেক শুকিয়ে এলে মুখ হালকা ঘষে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকে মেশাতে পারেন গোলাপজল, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা ভেজা মুখে স্রেফ ২-৩ ফোঁটা যে কোনো বেবি অয়েল মেখে নিন। তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করাই উচিত।

ভিটামিন ই ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে। ক্রিমের মধ্যে এই ভিটামিন মেশানো থাকলে, ক্রিমটি অনেকদিন পর্যন্ত ভালো ও ব্যবহারযোগ্য থাকে। ভালো কোম্পানির ওভারনাইট ক্রিম সব বয়সের জন্যই ভালো। বিদেশি নারিশিং ক্রিম ব্যবহার করাই ভালো। বিদেশী ক্রিমে থাকে কোলাজেন ও ইলাসটিন যা ত্বকের কোষগুলোকে নতুনভাবে কার্যকর করে তোলে। এছাড়া থাকে লাইপোসোম, যা ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। এ রকম ক্রিম রাতে ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকে।

যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও ব্রণ আছে, তারা প্যাক ধুয়ে ফেলে ময়েশ্চারাইজারের বদলে ব্যবহার করুন অ্যাসট্রিনজেন্ট। ঘরোয়া অ্যাসট্রিনজেন্ট হলো গোলাপজল ও শশার রস। এগুলো ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিলে আরও ভালো। শশার রস করে বরফ জমানোর পাত্রে রেখে আইস-কিউব করে নিতে পারেন। প্রতি রাতে রস বানানোর ঝামেলায় না গিয়ে একটি কিউব মুখে ঘষে নিন।

সমপরিমাণে পুদিনা পাতা ও নিমপাতা বেটে শুধু ব্রণ ও দাগের উপর লাগিয়ে ঘুমান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন ফেসপ্যাকেও। ব্রণের জন্য ভীষণ উপকারী।

নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও অত্যন্ত জরুরি। সারাদিনে ত্বক থেকে ময়েশ্চার নষ্ট হয়ে যায়, রাতে তা না হলে ত্বকে বলিরেখা পড়বে। যারা বাড়ির কাজ করেন, প্রত্যেকবার হাত ধুয়ে নিলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ও বলিরেখা পড়ে। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার।