চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পর্যালোচনায় বাংলাদেশ

সোমবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

ঢাকা : চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনায় ধীর গতিতে এগোবে বাংলাদেশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে এফটিএ করার আগে রাজস্ব আয়, স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এফটিএ হলে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে কি-না, তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা থাকায় এ অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা ও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রণয়ন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের এক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এফটিএ হচ্ছে দুটি দেশের মধ্যে চুক্তি, যার আওতায় এক দেশের পণ্য বিনা শুল্কে অন্য দেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের চুক্তি করে লাভবান হয়েছে। বাংলাদেশও কয়েক বছর ধরে কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ করার আলোচনা করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বলেন, গত জুন মাসে চীনের বেইজিংয়ে দুই দেশের ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় দুই দেশের নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশের প্রতিবেদন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

২০১৬ সালের মধ্য অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। এমওইউ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে উভয় দেশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়।

জানা গেছে, প্রতিবেদনে দুই দেশের অর্থনীতি, পণ্য বাণিজ্য ও শুল্ক্ক, রুলস অব অরিজিন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের পদ্ধতি ও বাণিজ্য সুবিধা, স্বাস্থ্যবিধি, বাণিজ্যে কারিগরি বাধা ও বাণিজ্য সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ যুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ। একই সঙ্গে সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, প্রতিযোগিতা নীতি, স্বত্বাধিকার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় সম্পৃক্ত করা হবে। প্রতিবেদনের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ অংশ বাংলাদেশ তৈরি করে চীনের কাছে পাঠাবে। আর চীন দ্বিপক্ষীয় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশকে দেবে।

গতকালের বৈঠকে উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য বাড়ানো। সে ক্ষেত্রে এমন সব দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি হওয়া উচিত, যেখানে দেশ লাভবান হবে বা উভয় দেশ লাভবান হবে।

কিন্তু চীনের বেলায় বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ কম। কারণ চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি অনেক বেশি। আবার চীন অনেক কম দামি পণ্য তৈরি করে। ফলে এতে দেশের শিল্পের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আসতে পারে। সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য চীনের বিনিয়োগকারীদের মতামত জানতে হবে; তাদের কোনো বিশেষ চাওয়া আছে কি-না দেখতে হবে।