পটুয়াখালী-৪ : হামলার পর মাঠছাড়া ধানের শীষ

রবিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

পটুয়াখালী: পটুয়াখালী-৪ আসনে মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রচারে পিছিয়ে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন। গত ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাঙ্গাবালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠ ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, প্রথম থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন ওই আসনের নৌকার প্রার্থী মহিব্বুর রহমান মহিব। দফায় দফায় চলছে উঠান বৈঠকসহ নানা প্রচার। গ্রামেগঞ্জে ছেয়ে গেছে নৌকার ব্যানার ও পোস্টার।

নৌকার সমর্থকরা বর্তমান সরকারের একাধিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে স্থবির হয়ে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। রাঙ্গাবালী-কলাপাড়া উপজেলার কোথাও দেখা যাচ্ছে না ধানের শীষের ব্যানার-পোস্টার।

গত ২৭ নভেম্বর কলাপাড়া শহরে নির্বাচনী শোডাউন দেওয়ার পর তেমন কোনো নির্বাচনী কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না বিএনপির। ১১ ডিসেম্বর রাঙ্গাবালীর খালগোড়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার এড়াতে রাঙ্গাবালী উপজেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী এখন এলাকাছাড়া বলে অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী মোশাররফের। নির্বাচনী সভা ও প্রচারে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থীর দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি এ আসনে বিজয়ী হবেন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মহিব্বুর রহমান বলেন, নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বিএনপি এখন বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে নির্বাচনের মাঠ ছাড়ার কৌশল করছে। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী সভা, মাইকিং, পোস্টারিং ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, রাঙ্গাবালী-কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দলের নেতাকর্মীদের দল ত্যাগ করার বিষয় জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানে বলেন, ‘শুনেছি মহিপুর থানাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা দল ত্যাগ করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা কেন দল ত্যাগ করেছেন, এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।’

গ্রুপিংয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। প্রার্থীর উচিত বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। আমরা প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত।’

দলের শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোস্তফিজুর।

পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা ও দুটি থানা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসনের নির্বাচনী এলাকা। এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৪৯ হাজার ৪৬ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ২৫৭ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মহিব ও বিএনপির মোশাররফসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ছয়জন প্রার্থী। রয়েছেন জাতীয় পার্টির আনোয়ার হাওলাদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জহিরুল আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুর রহমান হাওলাদার ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি হাবিবুর রহমান।

এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে আসছে। প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে। এবারও ভোটের লড়াই হবে দুই দলের। তবে প্রচারের শেষ দিকে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ভূমিকা কী থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পায়রা তৃতীয় সমুদ্রবন্দর, কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের তিন নদীর ওপর তিনটি সেতু, এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রস্তাবনায় থাকা ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন, বিমানবন্দর সবই নির্মাণ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়ে দিনের শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ জনগণের কাছে যাচ্ছেন তাঁরা। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন নৌকার প্রার্থী মহিব্বুর রহমান।

এলাকায় প্রতিটি পথসভা ও উঠান বৈঠকে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিতে নৌকার প্রার্থী দিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি। আলহাজ জালাল উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আসছেন তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্য থাকায় ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে এবারও নৌকার প্রার্থী মহিব্বুর রহমান বিজয়ী হবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন।