জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান চাইলেন ইমরান

রবিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীর সংকটের সমাধানে উঠে-পড়ে লেগেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গণভোটের ডাক দেয়ার পর এবার সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলেন তিনি। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে ফোন করে নতুন করে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুললেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। তবে মহাসচিবের সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রীর কী কথা হয়েছে তা খোলসা করেননি তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। দিল্লি নিজেদের অবস্থানে অনড়।

কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাতে পাকিস্তানের নাকগলানো উচিত নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও হাল ছাড়তে নারাজ ইসলামাবাদ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে দুজারিক বলেন, কাশ্মীর নিয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। নিরাপত্তা পরিষদের তরফে নজরদারি কমিশন বসানো হয়েছে।

তারাই বিষয়টি দেখছে। মহাসচিব রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।

ইমরান খান নিজে ফোন করে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন। নিরাপত্তা পরিষদের যে নজরদারি কমিশনের কথা বলছেন দুজারিক, ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে জাতিসংঘ এবং সদস্য দেশগুলোর ১১৮ জন সদস্য নিয়ে সেটি গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তার পরের বছর হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বৈঠকে বসেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টো।

নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি কমিশনের তত্বাবধানে দুই দেশের মধ্যে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা গড়ে ওঠে। যাতে তা পেরিয়ে এক দেশ অন্য দেশের ওপর হামলা করতে না পারে। নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে জাতিসংঘকে অবগত করার দায়িত্ব বর্তায় ওই নজরদারি কমিশনের উপরে।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সরব হন খ্যাতনামা সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। সরকার গঠনের পরই এ নিয়ে ভারত সরকারকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। প্রথম দিকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েও পরে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দেয় নয়াদিল্লি।

তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে কূটনৈতিক চেষ্টার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন ইমরান। এদিকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে উপত্যকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ নাগরিকদের হত্যার ঘটনা চলছেই। গত সপ্তাহেই নিহত হয়েছে ১৪ বিচ্ছিন্নতাবাদী।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস করে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কাউন্ট্রিজ (ওআইসি)। এর নিন্দা জানায় ইসলামাবাদও। এ সময় কাশ্মীরিদের ভাগ্য তাদের হাতেই ছেড়ে দেয়ার বা গণভোটের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান ইমরান খান। এমনকি বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তোলার হুমকিও দেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় তখন তীব্র সমালোচনা করেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার। তিনি বলেন, ‘তাদের (পাকিস্তান) পক্ষ থেকে আসা বেশিরভাগ বিবৃতিই কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক।’