ইসি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ: এইচআরডব্লিউ

রবিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

ঢাকা : চলমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেশ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংগঠনটি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার করলেও পুলিশ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘ক্রিয়েটিং প্যানিক: বাংলাদেশ ইলেকশন ক্র্যাকডাউন অন পলিটিক্যাল অপনেন্টস অ্যান্ড ক্রিটিকস’ শীর্ষক এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরাজমান দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা ও এতে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের নেয়া আরো কিছু কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে পেরেছে, যার ফলে বাংলাদেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্র্যাড অ্যাডামস বলেন,‘ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের সরকারি দলের অতিরিক্ত শাখার ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়া উচিত না। বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রধানত বিরোধী নেতাকর্মীরাই এর শিকার হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ যে নিরপেক্ষ আচরণ করছে না, এটা তারই প্রমাণ।’

বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকাসহ সব জায়গায় ভিন্নমত ও সরকার বিরোধী সমালোচনার কণ্ঠরোধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

সাংবাদিকরা বলছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেল্ফ সেন্সরশিপ করার চাপে বা গ্রেফতারের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’