সেলিমা আহমাদ মেরীর গাড়ী লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ

শনিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসনে (হোমনা-তিতাস) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিমা আহমাদ মেরীর নির্বাচনী প্রচারণায় বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিতাস উপজেলার দড়িকান্দিতে পথসভায় যাওয়ার সময় দড়িকান্দি ব্রিজের উত্তর পাশে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সেলিমা আহমাদ মেরী নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে স্থানীয় তিতাস প্রেসক্লাবে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমার এবং জননেত্রী শেখ হাসিানর নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার দেখে ঈশার্ন্বিত হয়েই আমাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সরিয়ে দিতে ও হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে আমার প্রতিপক্ষ দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আজকের ঘটনায় প্রমাণিত হলো আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বোমাবাজ, আগুন সন্ত্রাসীর রাজনীতি চর্চা করেন। আমার নির্বাচনী প্রচারণার পূর্বের নির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচীর জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি পথসভাস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার উত্তরে আমার গাড়ি বহরের পেছন থেকে ক্রস করে এসে ৩টি মোটর সাইকেল ও একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত গতিতে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, যত হামলা ও পরিকল্পনাই করা হোকনা কেন এই বিজয়ের মাসে ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চত ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিতাস উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ তাদের নিজস্ব প্যাডে লিখিত ভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে অবহিত করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে আইনগত ভাবেই ব্যবস্থা নিবো।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তিতাস উপলো আওয়ামীলীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসীন ভূঁইয়া, সহসভাপতি মুন্সি মজিবুর রহমান, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু ও তিতাস উপজেলা যুবলীগের আহব্বায় সাইফুল আলম মুরাদসহ আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিমা আহমাদের স্বামী ও এফবিসিসি আইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, একটি জনসভায় যাওয়ার পথে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্য তারা বেঁচে গেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ এলাকায় অনেক জামায়াত-শিবির রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তারা লুকিয়ে আছে। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিতাস থানার ওসি সৈয়দ মো. এহসানুল ইসলাম বলেন, সেলিমা আহমেদ একটি জনসভায় যাওয়ার পথে দড়িকান্দি ব্রিজের উত্তর দিকের রাস্তায় পৌছালে সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করছি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।