একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

যে কৌশলেই হোক, আ’লীগের টার্গেট বিজয়

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

ঢাকা: আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভোটের মাঠে রয়েছে তাদের অবাধ বিচরণ। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচনের মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচনী মাঠ দখলে নিতে সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তারা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছে। নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। কে কী দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে যারা মনোনয়ন পায়নি দলের শীর্ষ নেতা তাদের নেতৃত্বে প্রতি বিভাগে আওয়ামী লীগের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। যাদের কাজ আওয়মী লীগের নির্বাচনী মাঠকে ধরে রাখার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টার্গেট অন্তত ২০০ আসনে জয়লাভ করা। সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিভিন্ন জরিপ ও ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর তাঁর বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে এবার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে। তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে আজ শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মোলনে দলের মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের কোনো মাঠই নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আর কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র সাতদিন। আশা করি সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন চাইলে এখনও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো সরাকরের নির্দেশে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার চেষ্টা করছে। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকে থাকার চেষ্ট করবো।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে দলের মাঝারি নেতাদেরও দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ পুরোপুরি বিরাজ করছে দেশব্যাপী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পুলিশ প্রশাসন একই কথা বলছে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত ১০টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আর বিভিন্ন মামলায় কারাগারে গেছেন দলটির ১৫ জন প্রার্থী। এসব ঘটনায় বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন আলোচনাও হচ্ছে যে পরিবেশের উন্নতি না হলে নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে বিএনপি ও এর মিত্রদের পক্ষে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে নির্বাচনে এজেন্ট দেওয়ার মতো কর্মী পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিতে।

বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য গুরুত্বের সাথে নিতে হবে উল্লেখ করে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে বলে দলের নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বলা মানে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর কাছ থেকে বলা। প্রধানমন্ত্রী তো এই কথা হরহামেশা বলতে পারেন না। এই মুহুর্তে যেহেতু তার দুটো দায়িত্ব আছে তার মানে বিশেষ ধরনের ক্ষমতাও আছে। অনেক ধরনের তথ্য পাওয়ার সুযোগ তার আছে, যা আমাদের নেই। আমাদের নির্ভর করতে হয় অনেকের কথা শুনে আর প্রত্যক্ষভাবে অনেক তথ্য পাবার মেকানিজম তার আছে। ফলে তিনি যা বলেন, সেগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো এমন হয়ে যাচ্ছে, যার নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকার কথা, তিনি সুনির্দিষ্ট একটি পক্ষ নিচ্ছেন। সে কারণেই এখন বলা হচ্ছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অন্য রকম হয়ে গেছে। ফিল্ডটা লেভেল আছে তবে প্লেয়াররা সবাই ভয়ে মাঠে ঢুকতে পারছে না।

অপরদিকে নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নরুল কবীর বলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আঅয়ামী লীগের কেউ মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছেন না। তারা হুমকি ধামকি ছাড়া কোনো কাজ করছে না। প্রধানমন্ত্রী রেডিও-টেলিভিশনে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সীমাবদ্ধতা আলোচনা করছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। নির্বাচনে একজন প্রার্থীর এটিই হবার কথা কিন্তু তার পরের পর্যায়ের নেতারা এলাকায় গিয়ে যেই ইঙ্গিতটা দিচ্ছে, তা হলো আমরা জোর করে ভোটে জিতবো। আ’লীগ নেতাকর্মীদের এরকম ভীতি সঞ্চারমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য, যাতে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে। এরকম কাজ গণবিচ্ছিন্ন সরকার ছাড়া কেউ করতে পারে না।

প্রথম থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মনোভাব আ’লীগের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ছোট আকারে একটি মন্ত্রিসভা করার কথা বেশ কয়েকবার বলা হয়েছিল, তারা কিন্তু সেটি করেননি। প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষেত্রে দেখা গেলো, বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আর সরকারিদলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই, এটা (বিএনপি) তারা ভোটের দিন বিকাল ৫-টা পর্যন্ত বলে যাবে। শুধু মাত্র নির্বাচন কমিশন তাদের জয়ী করে দিলে তারা এমন বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়াবে। নয়তো এমন মিথ্যাচার প্রতিদিন করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, তাদের দলের কী এমন কর্ম আছে যা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবে? তারা ভয়েই ভোটারদের কাছে যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ কারও নির্বাচনী প্রচারণায় অতীতেও বাধা দেয়নি, ভবিষ্যৎ বাধা দেবে না। শুধু শুধু মিথ্যা দোষারোপ করে আওয়ামী লীগের ভাবমূতি নষ্ট করছে।