ইসি, প্রশাসন এমনকি বিচার বিভাগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে: ফখরুল

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি), পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য একজোট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই নির্বাচন একটি তামাশা ও প্রহসনে পরিণত হয়েছে। গত ১০ বছর আমরা যে একটি স্বৈরাচার সরকারের অধীনে বসবাস করছি সেটি থেকে জনগণের মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু এখন নির্বাচনের আদৌ পরিবেশ আছে কি না সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য একজোট হয়েছে। আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বিচার বিভাগ কীভাবে পক্ষপাতিত্ব আচরণ করছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের প্রার্থীদের বাতিল করছে। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে- যেখানে কোনো অবস্থাতেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা কার সঙ্গে লড়াই করছি বুঝতে পারছি না, আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বাসা থেকে গ্রেফতার, জেলগেট থেকে গ্রেফতার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থীরাও পর্যন্ত বাদ যাচ্ছেন না। আমাদের ১৫ জন প্রার্থী এখনও কারাগারে রয়েছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি দল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে নির্বিঘ্নে আর আমাদের প্রার্থীদেরকে ঘর থেকেই বের হতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা এখনও আশাবাদী, নির্বাচনের আরও ৭ দিন আছে আমরা এখনও বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান থেকে ফিরে আসবে। প্রশাসনের কাছে একটা আহ্বান জানাব, যে আস্থা সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের রয়েছে তারা সম্পূর্ণ নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সরকারদলীয় লোকজন সারাদেশে ঘটনা ঘটাচ্ছে, আবার তারাই মামলা দিচ্ছে। একদিকে আওয়ামী সন্ত্রাস, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।