অবশেষে বগুড়া-৩ আসনে প্রার্থী পেল বিএনপি

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮

বগুড়া: ধানের শীষের প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়া বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে অবশেষে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন মাছুদা মোমেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও মোঃ খায়রুল আলমের দ্বৈত বেঞ্চ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাছুদা মোমেনের নামে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মাছুদা মোমেনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম আলফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকার স্ত্রী মাছুদা মোমেনকে একই আসনে ইতিপূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সেখানে তার স্বামী আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকা ও দেবর আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোহিত তালুকদারকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ামর‌্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে সাবেক সাংসদ আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকা গত ৯ ডিসেম্বর তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। ওই একই দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে মাছুদা মোমেনকে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী জানিয়ে তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধও করেন।

তবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মাছুদা মোমেনের দেবর আব্দুল মোহিত তালুকদারের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেয়। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রার্থীতা পরিবর্তন করে আব্দুল মোহিত তালুকদারকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে আবার তাকে ধানের শীষ প্রতীক দিতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মোহিত তালুকদারকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দও দেন।

অন্যদিকে আব্দুল মোহিত তালুকদারের প্রার্থীতা বহালের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। গত ১১ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে শুনানি শেষে গত ১৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। ফলে আব্দুল মোহিত তালুকদারের প্রার্থীতাও আটকে যায়। এরপর পরই মাছুদা মোমেন তার প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন।

ঢাকায় অবস্থানরত মাছুদা মোমেন জানান, প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এ আসনে ধানের শীষের কোন প্রার্থী ছিল না। আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই শূন্যতা কেটে গেছে।

তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দ পেলেই আমি গণসংযোগে নামবো।