সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪ ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

সাভার : কখনো ডিবি পুলিশ, কখনো ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা মানবাধিকার কর্মী আবার কখনো নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সহ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ও ভয় ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল একটি প্রতারক চক্র। মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকার জামসিং মহল্লায় এক বাড়ীতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও এক নারীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে ভয়ংকর এই চাঁদাবাজ ও প্রতারক চক্রের মূল নায়ক মফিজুর রহমান সোহেলসহ তার ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরে বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত ৪ জন সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দয়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ চক্রের আরো ৮ সদস্য ও পৃষ্টপোষকদের পুলিশ খুঁজছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক হওয়া চার জন হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার জোতকুড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ মোল্লার ছেলে মফিজুর রহমান সোহেল (৩৮), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার হরিদাসপুর গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে মবিনুর রহমান রবিন (৩৩), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বুজরুক বোয়ানিয়া গ্রামের মোঃ আবুল কালামের ছেলে মোঃ নাজমুল হাসান (২৩), লক্ষিপুর জেলার রামগতি থানার চর আলগী গ্রামের এইচ এম হকের এইচ এম আতিক (৪৪)। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ভাটপাড়া মহল্লার রিপন তালুকদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস ব্যবাসায়ী সাইফুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে প্রবেশ করে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে প্রতারক মফিজসহ ১১ জন প্রতারক।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি তুলে এবং ভিডিও করতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া তার ছোট বোনকে ঘরের অপর একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত করতে থাকে।

পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে প্রতারকদেরকে আটক করে। খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় বাড়ির গৃহকর্তা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে যৌন নিপিড়ন করাসহ চাঁদা দাবী ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৭ প্রতারকের নাম উল্লেখ করে বুধবার সকালে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় আটককৃত ৪ জন ছাড়াও মোঃ মেহেদী, মোঃ ইব্রাহীম খলিল, সাইদুর রহমান বকুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আওয়াল জানান, গ্রেফতারকৃত মফিজুর রহমান সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতারকচক্রটি নিজেদের সিএনএন বাংলা, দৈনিক সন্ধ্যাবাণীসহ একাধিক মিডিয়ার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডে একটি প্রতিষ্ঠানে দুই নারীকে নিয়ে যায় এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা না দিলে নারী দিয়ে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর ভয় ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক মহসিন উদ্দিনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

বাকি ঢাকার জন্য চাপ দিলে মহসিন উদ্দিন সাভার থানায় মামলা দায়ের করলে গত ৩০ মার্চ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পৌর এলাকার জালেশ্বর মহল্লায় ব্যবসায়ী গোপালের স্ত্রী লক্ষী রাণী জানান, জালেশ্বর মহল্লায় তাদের ‘স্বপ্না ফার্মেসী’ নামে একটি দোকান রয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারী সোহেল চক্রের সদস্যরা তার স্বামীকে অপহরণ করে তাদের কথিত টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে মরধোর করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। পরে ১ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করলে মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

গত ১৯ জানুয়ারী সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী আলতাফ হোসেন চাঁদা দাবীর অভিযোগে সাভার থানায় সোহেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সম্প্রতি ফুলবাড়িয়ায় কার্তিক ঘোষের মিষ্টির দোকানে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করে এই চক্রটি।