ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাতে যা খাবেন

বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম বা প্রয়োজনীয় ব্যায়ামের অভাবে যে সব অসুখগুলো হয় তার মধ্যে অন্যতম ফ্যাটি লিভার। আর সহজে এই অসুখের লক্ষণও বোঝা যায় না।

চিকিৎকদের মতে, আমাদের প্রত্যেকের লিভারেই একটা নির্দিষ্ট পরিমানে চর্বি থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের মতে, অনেকেরই ধারণা, কেবলমাত্র মদ্যপানের অভ্যাস থেকেই বোধ হয় এই অসুখ হয়। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। ফ্যাটি লিভার দুই রকম। অ্যালকোহলিক ও নন-অ্যালকোহলিক।

মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান থেকে লিভারে চর্বি জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। কিন্তু দ্বিতীয়টি মূলত খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল, ফ্যাট জাতীয় উপাদান বেড়ে গেলে হয়। তবে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বংশগত কারণেও হতে পারে।আর সতর্ক না হলে এই ফ্যাটি লিভারের কারণেই হতে পারে লিভার সিরোসিস।

চিকিৎসকদের মতে, মদ্যপানের কারণে লিভারে চর্বি জমলে তা কমানোর একমাত্র উপায় মদ্যপান বন্ধ করা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলা।

কিন্তু নন-অ্যালকোহলিকদের ক্ষেত্রে সব সময় ওষুধ না খেয়ে ঘরোয়া কিছু সুঅভ্যাসেও অসুখটি কমানো যায়। এর জন্য প্রয়োজনীয় শরীরচর্চা যেমন দরকার, তেমনই খাদ্যাভ্যাসেও তেল-মসলা কমানো উচিত। এছাড়াও ফ্যাট জাতীয় খাবারও কম খেতে হবে। এর সঙ্গে দুই ধরনের পানীয় আপনাকে অনেকটা সুস্থতা এনে দিতে পারে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এই অসুখের অন্যতম সেরা সমাধান। লিভারের দুইপাশে জমে যাওয়া চর্বি ঝরিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এটি। প্রতিদিন খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে খান। আরো ভাল ফল পেতে এতে মধু মিশিয়েও নিতে পারেন। অ্যাপেল সিডার ভিনিগার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের কাজ করে।

দ্বিতীয় পানীয়

গরম পানিতে লেবু-মধুর মিশ্রণ কেবল শরীরের চর্বিই কমায় না, লিভারের পাশে জমে থাকা চর্বিকেও দূর করতে তা সক্ষম। শরীরের টক্সিন বের করে দেয়ার প্রাকৃতিক ক্ষমতা রয়েছে লেবুর। এমন কি এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট লিভারের চর্বিও গলাতে সাহায্য করে।

তবে এই দুইটি পানীয় প্রতিদিন খাওয়া হয় ভেবে খাদ্যতালিকায় তেল-ঝাল বাড়িয়ে দিলে হবে না। বরং এই দুই পানীয়র সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চাও করতে হবে।