প্রেম নিবেদনে নরমুণ্ডু!

বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আসাম ও নাগাল্যান্ড সীমান্তের দুর্ধষ্য উপজাতি ‘কন্যাক’। তারাও বিয়ে কিংবা প্রেম করতো সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু প্রেম নিবেদন বা বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার উপায়টা ছিলো ভিন্ন।

তারা প্রেম নিবেদন করতো ফুল বা কার্ড দিয়ে নয়, নরমুণ্ডু দিয়ে। বিয়ের কনের মন পেতে হলে অন্তত একটা মাথা কেটে আনা ছিল ‘কন্যাক’ সমাজের গর্ব।

তবে এখন কন্যাকদের নরমুণ্ডু দিয়ে প্রেম নিবেদন বা বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার খবর পাওয়া যায় না। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার বহু পরে ১৯৬৯ সালেও তাদের নরমুণ্ডু শিকারের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এই কাটা নরমুণ্ডু দিয়েই তাঁরা স্বজাতির কোনো তরুণীর হৃদয় হরণ করত। কাটা মাথা দিয়ে ঘর সাজানোও হতো। এতেই নাকি তাদের ঘরের শোভা বেড়ে যেত।

একটা সময় নাগাল্যান্ডের প্রত্যেক উপজাতিই মুণ্ডু শিকার করতো। কিন্তু ব্রিটিশ মিশনারি আর সেনাবাহিনীর চেষ্টায় মুণ্ডু শিকারের প্রথা কমতে শুরু করে। পরে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে একজন নৃবিজ্ঞানী জানান, “বিলুপ্ত বলা হচ্ছে কারণ ১৯৬৯-এর পর থেকে ৫০ বছর এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ে কোথায় কী হচ্ছে সব সরকারের সর্বক্ষণ নজরে রাখা সম্ভব নয়। হতেও পারে লুকিয়ে চুরিয়ে সেই ভয়ংকর প্রথাকে পাহাড়ের খাঁজেই আটকে রেখেছে।”

তিনি আরো জানান, “প্রতিপক্ষের মুণ্ডু কেটে নেওয়া হয়তো অমানবিক, কিন্তু এই নাগা যোদ্ধাদের কাছে এটা ছিল বীরত্বের নিদর্শণ।”

১৯৪০ সালে ভয়ংকর এই প্রথা আইন করে নিষিদ্ধ করার আগে পর্যন্ত কন্যাকদের মধ্যে লড়াই মানেই প্রতিপক্ষের মুণ্ডু শিকার। প্রতিপক্ষের কোনো যোদ্ধাকে হত্যা করে তার মুণ্ডু কেটে নিয়ে আসতে পারাই তরুণ কন্যাকদের জন্য বীরের মর্যাদা লাভের সুযোগ। মানুষের পাশাপাশি মহিষ, হরিণ, বনগাই, বন্য শূকর আর ধনেশের মাথার খুলি আর হাড়ে সাজানো থাকত সব কন্যাকদের বাড়ির দেওয়ালে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিকারের বীরগাথা যেন লিখে রাখা ছিল এসব কঙ্কালে।

বহু বছর ধরে ক্রমাগত শিক্ষা আর আইন কানুনের যৌথ উদ্যোগে এই রীতি বিলুপ্ত হয়েছে বলা চলে। পাশাপাশি বহু কন্যাক এখন শহর বন্দরে যাতায়াত করে। সভ্য জগতে থেকে তাদের হিংস্রতা অনেকটাই কেটেছে বলে মনে করা হয়। নরমুণ্ডু শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কন্যাকই তাঁদের সংগ্রহে থাকা শত্রুদের মাথার খুলিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছে।