অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর কথা না শুনে মানুষের পাশে দাঁড়ান: পুলিশকে বিএনপি

বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কারসাজিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশে সর্বগ্রাসী স্বৈরতন্ত্রে কোন প্রতিষ্ঠানই তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারছে না। সরকারি সন্ত্রাসের প্রকোপে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলি স্বাচ্ছন্দে তাদের কর্তব্য পালন করতে পারছে না। মানুষের বেঁচে থাকার সকল অবলম্বনকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এক ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডুবে যাচ্ছে।
বুধবার বেলা ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জনবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার সারাদেশে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে পুলিশকে দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির নীল-নকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। পুলিশের সদর দপ্তরে দিনে রাতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। আমাদের কাছে বিশ^স্ত সূত্রের মাধ্যমে খবর আছে, নৌকার বিজয় ছিনিয়ে দিতে পারলে পুলিশের এসি, এডিসি, ওসিদের প্রোমোশন এবং নগদ অর্র্থের প্রলোভন দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্দেশনা কার্যকরের তদারকী করার জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। নির্বাচনকে কিভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেওয়া যায়, কীভাবে কারচুপি করা যাবে-সে বিষয়ে নীল নকশার সাধারণ সূত্র উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রলীগের বাছাই করা দশ হাজারের বেশী ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে-ভোটের সময় ডিবি পুলিশের সাথে কাজ করার জন্য।
তিনি বলেন, আজ আমরা জানতে পেরেছি, ডিএমপি ডিবির জয়েন্ট কমিশনার, এডিসি ও তার অধিনস্থ এসি’দের বলেছেন যে, যদি তারা তাদের দায়িত্বাধীন কেন্দ্রে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারে, তবে প্রত্যেকে পাঁচ লাখ করে টাকা দেয়া হবে।
-এটা ভয়াবহ উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার বিষয়। অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের দল অনুগত কর্মকর্তাদের ভুমিকায় সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ – ব্যক্তিগত লাভ ও প্রলোভনে পড়ে দেশ ও গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিবেন না। শুধু নিজেদের স্বার্থের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিহ্ন করবেন না। মানুষের পাশে দাঁড়ান। অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর কথা শুনে মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে গলাটিপে ধরার যন্ত্র হিসেবে কাজ করবেন না। নাগরিক স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করুন। আপনার দেশপ্রেম প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে ৩০ ডিসেম্বর।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ন্যুনতম নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চাইলে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে আজই মাঠে নামাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো দাবী পুলিশের সদর দপ্তরে বসে যারা কুপরিকল্পনা করছে, তাদেরকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে।
রিজভী বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীকে ৬৩ কোটি ২২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, আনসার বাহিনীকে ১৬৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, কোষ্টগার্ডকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিজিবি’কে ৩৩ কোট ২ লাখ এবং র‌্যাব-কে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গুঞ্জন আছে-সেনাবাহিনীর নামে কোন বরাদ্দ না দিয়ে তাদেরকে ব্যারাকেই রাখা হবে। এটি একটি অশুভ মহাপরিকল্পনার নির্বাচন করারই পূর্বলক্ষণ।