কোনো খাবারই যেন বাদ না যায়

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ওজন কমাতে বা ঠিক রাখতে আমরা ডায়েট কন্ট্রোল করে থাকি। সেক্ষেত্রে প্রথমেই খাবার-দাবারের কিছু নিষেদ মেনে চলি। এটা করতে গিয়ে দেখা যায় কিছু খাবার একেবারেই বাদ রাখি। কিন্তু সেটা করা যাবে না। কারণ সব খাবারেরই আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে।

আবার কোনো খাবার খুব বেশি বেশি খাওয়াটাও ঠিক নয়। সব খাবারেরই নিজস্ব কিছু গুণ আছে, আবার দোষও আছে।

অনেকেই ভাবেন যে ফল খাওয়া খুব ভালো। প্রতিদিন অনেক ফল খেলে শরীর খুব ভালো থাকে। অনেকে বলেন, ডিনারের পর ডেজার্ট খাওয়ার বদলে ফল খাওয়া উচিত। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন কলা, আতা, সফেদা বা আঙুর খেলে মোটা হয়ে যাবেন আর কমলালেবু, পেঁপে, তরমুজ ওজন কমাতে উপযোগী। বাস্তবে কিন্তু এগুলো মিথ। এই মিথগুলো এতদিন ধরে চলে আসছে যে এগুলোকেই সত্যি বলে মনে হয়।

নিউট্রিশন সায়েন্স বলে, ভরা পেটে ফল খেলে তার সুগার অর্থাৎ ফ্রুকটোজ ট্রাইগ্লিসারাইডে পরিবর্তিত হয়ে শরীরে জমে যায়। আর শরীরে হাই লেভেল ট্রাইগ্লিসারাইড থাকা মানেই হার্টের অসুখ, ইনসুলিন ইনসেনসিটিভিটি, অতিরিক্ত ওজনকে আমন্ত্রণ জানানো। ফলে বুঝতেই পারছেন ফল সব সময় খাওয়া মোটেই ভালো নয়। ডিনারের পর যে ফলই আপনি খান না কেন, ডেসার্টের চেয়ে কিছু কম ক্ষতি হবে না। তবে সকালে বা এক্সারসাইজের পর যদি ফল খেতে পারেন, তা শরীরের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

একটা সময় ছিল যখন সয়াকে মনে করা হত ‘দা মিরাকল ফুড’। মুড স্যুয়িং থেকে শুরু করে ওজন বাড়া, হার্ট ডিজিজ সবকিছু প্রতিরোধ করতে সয়াই ছিল একমাত্র দাওয়াই। ওজন কী এতে কমত? অবশ্যই, কিন্তু দীর্ঘদিন এই ধরনের ডায়েট প্ল্যান মানার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকাও কম ছিল না। স্ট্রেচ মার্ক, হাই ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেল, ডিপ্রেশন এমনকী ক্যানসারের সমস্যাও দেখা গেছিল। কিন্তু এসব সমস্যার জন্য শুধুমাত্র সয়াকে দোষারোপ করলে ভুল হবে। মূলত দোষ মানুষের। শুধু সয়া খেয়ে, অন্য সমস্ত পুষ্টির সোর্স বাদ দেওয়া কখনওই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

কোনও খাবার প্রচুর পরিমাণে খাওয়া বা না খাওয়া ঠিক নয়। আসল কথাটা হল ‘মডারেশন’। বুঝতেই পারছেন নিরাপদ খাবার বলেও যেমন কিছু হয় না, ‘ফ্যাটেনিং খাবার’ বলেও কিছু নেই। প্রত্যেক খাবারেরই কিছু পুষ্টিগুণ আছে যা শরীরে পক্ষে দরকারী। তাই সুস্থ থাকতে, ভাল থাকতে সব খান, কিন্তু সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে। আর ক্র্যাশ ডায়েটিং তো একেবারেই নয়।