নওফেলের বক্তব্যে ক্ষুব্দ নোমান-খসরু

সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮

ঢাকা : চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দিন বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব ও ‘আগুন সন্ত্রাস’ কর্মকাণ্ডে ভোটারদের মনে ‘ভয়ের আবহ’ সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটাদের মাঝে বর্তমানে ভয়ভীতি নেই বরং উৎসবমুখর পরিবেশ দেখছি।’

এ সময়‘চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইভিএম নিয়ে নারী ভোটারদের মধ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ নওফেলের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক দাবি করে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নোমান ও খসরু।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের কার্যালয়ে সম্মেলন কেন্দ্রে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সভায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লা আল নোমান বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে আমার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। শত শত মাইল হেঁটে বাংলাদেশে এসেছি। বাংলাদেশ থেকে আবার গিয়েছি। যুদ্ধ করেছি। সেই মানুষ আমি। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, রোববার আমাদের যে প্রোগ্রামটা ছিল ‘বিজয় দিবসের র‌্যালির উদ্বোধন’ নয়াবাজার এলাকায়।

উদ্বোধন করতে গিয়ে যখন বক্তব্য শুরু করলাম তখন দেখি হঠাৎ লাঠিসোটা, বন্দুক এবং রিভলবারসহ বিশাল এক বাহিনী এগিয়ে আসছে। তাদের থেকে রক্ষা করার জন্য নেতা-কর্মিরা আমাকে নিয়ে একটা ঘরে অবস্থান নিল।

তারা (আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিরা) আমাকে গুলি করতে উদ্যত হয়। নেতা-কর্মিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি জেলা পুলিশকে অনুরোধ করেছি হামলাকারীদের আটকাতে। তারা বললেন, এটা তাদের বিষয় নয়। এটা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বিষয়। আমি খুব আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটবে তা কখনো আশা করিনি।

আমাদের অনুষ্ঠানটি করতে প্রশাসন থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এর আগের দিন পুলিশ প্রশাসন আমাদের কর্মীদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়েছে। তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। বলছে এক- দেড় মাসের জন্য এলাকা ছেড়ে চলে যেতে।’

নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নোমন বলেন, ‘আমার আসনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে এমন এজেন্ট ও কর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই যদি অবস্থা হয়, তবে দেশের অবনতি হবে। একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা ব্যাহত হবে। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’

‘গায়েবি মামলা’ বাংলা অভিধানে নতুন অর্ন্তভুক্ত হওয়া একটি শব্দ মন্তব্য করে চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি আগামীকাল যেখানে গণসংযোগে যাব, আজ রাতে সেখান এলাকায় তাণ্ডব চালাবে পুলিশ। প্রচার-প্রচরণায় আসা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মোবাইলে ভিডিও করে রাখছে। রাতে আবার তাদেরকে গ্রেফতার করে গায়েবি মামলায় ঢুকানো হচ্ছে।

নোমান বলেন, সরকারি দল ও পুলিশ প্রশাসন সাধারণ জনগনের মাঝে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভীতি সৃষ্টি করছে। এসব কী দেশের মানুষ দেখছেন না?’

এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।