৪ জানুয়ারি শপথ নে‌বেন খালেদা জিয়া: দুদু

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ঢাকা : ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে আগামী ৪ জানুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দ‌লের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি ব‌লে‌ছেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন, বেগম জিয়া ৪ জানুয়ারি শপথ (প্রধানমন্ত্রীর) নেবেন। যা সত্য, স্বাভাবিক ও সূর্যের মতো জ্বলজ্বলে।’

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘৩০ তারিখ পর্যন্ত লড়াই আমরা অব্যাহত রাখবো। লড়াইয়ের ফলাফল আগেই বলে দিই। বিএনপি জয়লাভ করবে। জনতা রাস্তায় নেমে আসবে। তার লক্ষণগুলো কী জানেন? আমাদের কাছে অস্ত্র নাই, বোমা নাই, আমাদেরকে গত ১০ বছরে যেভাবে দমন-পীড়ন করেছে, এখানে সর্বাধিক মামলার আসামি আছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন কেউ নাই যার নামে মামলা নাই। তারা বিএনপিকে কেন এতো ভয় পায়? বিএনপি জননন্দিত দল। বিএনপি মানুষের দল, দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে ভালবাসে। তারেক রহমান, শহীদ জিয়াকে ভালোবাসে। এই জন্যই তো তারা (আওয়ামী লীগ) বিপদে আছে। তা জেনেই সরকার আমাদের ওপর আক্রমণ করছে।’

কৃষক দ‌লের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনাদের (সরকারের) কাছে পুলিশ আছে, প্রশাসন, ব্যাংকের টাকা, সেনাবাহিনী আছে। তারপরও আক্রমণ করেন কেন?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দুদু বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছে। কী নেই আপনার। আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি, তারপরও আমাদের ওপর আক্রমণ করছেন। মির্জা আব্বাস যিনি ঢাকার মেয়র ছিলেন, ড. কামাল একটা ভদ্রলোক, বয়স্ক মানুষ, হাঁটা-চলাফেরায় অসুবিধা, তার ওপরও আপনি আক্রমণ করলেন। আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না তাদের ওপর আক্রমণ করলেন। বাংলাদেশে যদি কোনভদ্র রাজনীতিবিদ থাকে তিনি হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁয়ে তার ওপরও হামলা করলেন। ভয় আমরা না, আপনারা পেয়েছেন। এজন্যই ভোটের আগে যাকে সামনে পাচ্ছেন তার ওপরেই আক্রমণ চালাচ্ছেন।’

সা‌বেক এই সাংসদ আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- ভাই ৩০ তারিখের পর কী হবে? প্রতিবেশীরা এই প্রশ্ন করেন, টকশোতে গেলে এই প্রশ্ন করেন। তখন বলি ৩০ তারিখ নির্বাচন, বেগম জিয়া ৪ তারিখে শপথ (প্রধানমন্ত্রীর) নেবেন।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা একমাসে দুটি বিজয় দিবস পালন করবো। একটি ১৬ ‍ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, অন্যটি ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের বিজয়। ৩০ তারিখ আমাদের ফাইনাল খেলা। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে আমাদের জয়ের কোনও বিকল্প নেই। এই দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিল, সম্ভ্রম হারিয়েছিল, তাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে ৩০ তারিখে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে।’

সভায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন, মো. জসিম ও মাওলানা নেছারুল হক প্রমুখ।