হত্যা মামলার স্বাক্ষীকে খুন, বাদীসহ পরিবার অবরুদ্ধ-এলাকায় তোলপাড়

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জে দিনের বেলা প্রকাশ্যে মাংস বিক্রেতা সালজার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম স্বাক্ষী পন্তু শেখ(৪০) কে প্রকাশ্যে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত (বৃহস্পতিবার) ১৩ ডিসেম্বর বিকেল ৫ টায় গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন নয়াহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পন্তু শেখ গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন কোচাশহর ইউপির সিংগা গ্রামের মৃত মোহাম্মাদ আলীর ছেলে ও নিহত সালজারের মামাতো ভাই।

এদিকে এঘটনার পর থেকে মামলার বাদী ও তাদের পরিবার বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে আসামী গ্রেপ্তার বা বাদীকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাংনগর মাঝপাড়া গ্রামের আঃ গফুরের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৪৫) ও তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাজু (৩৫) মাংস বিক্রেতা পন্তু শেখের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে পন্তুকে উপর্যপুরী কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারতে থাকে তারা। এসময় স্হানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

এসময় পন্তু শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় মারা যায় বলে দাবি করেন তারা। তবে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান দাবি করছেন, ফরিদুল ও রাজুর সাথে পন্তুর তর্কাতর্কি ও মারপিটের ঘটনা ঘটলেও অনেক পরে সে স্ট্রোক করে মারা গেছে।

নিহতের পরিবার এবিষয়ে কোন মামলা করতে চায়নি। তবে লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে প্রকৃত কারন জেনে মামলা নেয়া হবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদুল ও রাজুকে আসামী করে এজাহার দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গাংনগর মাঝপাড়া এলাকায় দিনের বেলায় রামদা দিয়ে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রেতা সালজারকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। এ মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় স্বাক্ষী ছিলেন পন্তু শেখ। আর এ মামলায় দুই নম্বর অাসামী ছিলো ফরিদুল ও চার নম্বর ছিল রাজু।

এলাকাবাসী ধারনা করছে, পূর্বের মামলার সাক্ষী হওয়ার কারনেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এদিকে দেড় মাসের মাথায় দুইটি খুনের ঘটনা ঘটানোয় ফরিদুলকে দুষছে এলাকাবাসি।

স্থানীয় অনেকেই দাবি করেন, ৩০ অক্টোবর সালজার হত্যাকান্ডের পর থানায় মামলা হলেও ১ নং আসামী ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। খুনের কয়েকদিন পর থেকেই এলাকায় ফরিদুলসহ অন্যান্য আসামী প্রকাশ্যে ঘুরে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে হুমকি দিয়ে আসছিল তারা।

আসামীরা পুলিশকে অনেক টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছিল বলেও দাবি করেন অনেকে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। বাদী তার সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ করেনা বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে আগের মামলার বাদী নিহত সালজারের পুত্র সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, আসামী গ্রেপ্তারের জন্য বারবার বলা হলেও পলিশ তাদের ধরেনি। উল্টো ফোন দিলে বকাঝকা করে দারোগা ফোন কেটে দেয় বলেও দাবি করেন তিনি। মাত্র দেড় মাসের মাথায় একই ব্যক্তির হাতে চাচা পন্তু খুন হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

বাড়িতে তারা অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করছেন বলেও জানান তিনি। এলাকাবাসী দাবি করেন, গরু চোর সিন্ডিকেট ও দাদন ব্যবসার নেতৃত্ব দেয় ফরিদুল। গরু চুরিতে বাঁধা দেয়ার কারনেই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি অনেকের।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, সালজার হত্যাকান্ড একাই সংঘটিত করেছে বলে গ্রেপ্তারকৃত আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। তাই এজাহারনামীয় হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।