বিকল্প জ্বালানি হাইড্রোজেন ফুয়েল

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথিবী জুড়ে জ্বালানির অভাবের কথা সকলেরই জানা। পেট্রল-ডিজেল সহ খনিজ তেলের ভাণ্ডার দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। তাই বিজ্ঞানীরা খোঁজ চালাচ্ছেন বিকল্প জ্বালানির।

এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গ্রেগ রাউ বলছেন বিকল্প রয়েছে হাতের নাগালেই৷ শুধু একটু পরিশ্রম করলেই তা মিলবে৷

গ্রেগ বলছেন, সমুদ্রের পানি থেকেই তৈরি হতে পারে বিকল্প জ্বালানি৷ সমুদ্রের জলের অণুগুলি ভেঙে তৈরি করতে হবে হাইড্রোজেন গ্যাস৷ এর জন্য ব্যবহার করতে হবে ইলেকট্রোলাইসিস পদ্ধতি৷ পানির তড়িদায়ন হয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব৷

হাইড্রোঅক্সাইড আয়ন ও হাইড্রোজেন আয়নগুলিকে আলাদা করতে পারা যাবে ইলেকট্রোলাইসিসের মধ্যে দিয়ে৷ এই হাইড্রোঅক্সাইড বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করবে৷ তৈরি করবে বায়ো কার্বোনেট৷ তারপর সেখান থেকেই তৈরি করা যাবে বিশেষ জ্বালানি৷ এই বায়ো কার্বেনেট কোনও ভাবেই সমুদ্রের ইকো সিস্টেমকে দূষিত করবে না৷

সমীক্ষা বলছে সৌর বিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি দিয়ে তৈরি বিদ্যুৎ যেভাবে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে, তেমনই এই সমুদ্রের পানি থেকে তৈরি জ্বালানি নতুন দিগন্ত দেখাবে বিশ্বকে৷

এই জ্বালানিকে বলা হচ্ছে হাইড্রোজেন ফুয়েল৷ এর খরচও অনেক কম বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷ এতে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা৷

এর আগে, আয়ারল্যান্ডে একটি ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পে সাগরের নীচে সি-উইড বা অ্যালজি থেকে জ্বালানি উৎপাদনের নমুনা দেওয়া হয়৷ গবেষকরা ঐ সামুদ্রিক শ্যাওলা থেকে যে তেল বার করেছেন, তা বায়োফুয়েল তৈরিতে কাজে লাগানো যায়৷ বিজ্ঞানীরা জানান সি-উইডের চাষ করতে কোনো সার লাগে না, চাষের জমি লাগে না৷ কিন্তু মাটিতে যে সব ফসলের চাষ হয়, সেখানে জমি নিয়ে টানাটানি৷ এছাড়া সি-উইড খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে, ছয় মাসেই পুরো গজিয়ে যায়৷

কিছু কিছু অ্যালজি অর্থাৎ সামুদ্রিক শ্যাওলায় শর্করা আছে, যা বায়োএথানল তৈরিতে ব্যবহার করা যায়৷ অপর কিছু অ্যালজিতে তেল আছে, যা বায়োডিজেলে পরিণত করা যায়৷

গবেষকরা এ ধরনের জ্বালানিকে ব্যবসায়িক দিক থেকে ব্যবহারযোগ্য করতে সচেষ্ট – তাঁরা প্রধানত অ্যালজির বাড় ও অ্যালজিতে তেলের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন৷

এই বিষয়ে গবেষক জুলি ম্যাগওয়ার বললেন, গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, এই শ্যাওলায় মাটিতে চাষ করা ফসলের চেয়ে ৭ থেকে ৩১ গুণ বেশি তেল থাকবে৷