ড. কামাল হোসেনের দুঃখ প্রকাশ

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ঢাকা: গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মিরপুর স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা করে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনে অসামান্য তাৎপর্যপূর্ণ। আমি প্রত্যেক বছরের মতো এবারও শহীদ বুদ্ধজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর স্মৃতিসৌধে গিয়েছি। এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও ছিলেন।

১৯৭২-৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত আইনগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারা আমার কাছে সর্বদাই আবেগ অনুভূতির বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শুধুই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যান।

এতে তিনি আরও বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, আমরা কতো মেধাবী সন্তানদের হারিয়ে তবে স্বাধীনতা পেয়েছি। তখন হঠাৎ করে বেদিতেই আমার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলো। আমি তাৎক্ষণিক সবিনয়ে বলি, আজকের এই দিনে, যেখানে আমাদের গভীর অনুভূতির বিষয়, এই বিষয়ে এখানে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পুনরায় একই প্রশ্ন তুললে আমি একই মনোভাব ব্যক্ত করি।

কিন্তু তৃতীয়বার ভিড়ের মধ্যে থেকে কোথাও অনবরত দুই থেকে তিনবার আমি শুধু ‘জামাত জামাত’ শুনতে পাই। তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। এ বিষয়ে আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমার বক্তব্য যদি কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

সকলে অবগত আছেন যে, আমি সারাজীবন সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল থেকেছি।

আশা করি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তাদের জীবনের বিনিময়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আমরা সকলে মিলে গড়তে সক্ষম হবো।

প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ড. কামাল।

এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা? আগামী নির্বাচনে জামায়াত প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান জানতে চান।

তবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে প্রথমে এড়িয়ে যান তিনি। ড. কামাল এ সময় বলেন, এখানে নয়, বাইরে গিয়ে এসব বিষয়ে কথা বলি। পর মুহূর্তে তাকে আবারো প্রশ্ন করা হয়, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল, কিন্তু কিভাবে তারা নির্বাচন করবে এমন প্রশ্ন করা হলে রেগে যান ড. কামাল। এ সময় ‘চুপ করো, খামোশ’ বলে ওই সাংবাদিককে থামিয়ে দেন তিনি।

এর পর ড. কামাল পাল্টা জবাবে বলেন, ‘কত টাকা পেয়েছো, কাদের টাকায় এসব বেহুদা প্রশ্ন করছো? তোমাদের নাম কি? দেখে নেবো? কোন পত্রিকা/টিভিতে কাজ করো, তোমাদের দেখে নেবো?’