কর্মীরা রক্ষা না করলে মরেই যেতাম: আব্বাস

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ঢাকা : নির্বাচর্নী প্রচারণায় হামলার সময় দলের নেতাকর্মীরা রক্ষা না করলে মরে যেতেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার দুপুর আড়াইটায় শাহাজানপুরের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে একথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হামলার সময় দলের নেতাকর্মীরা আমাকে রক্ষা না করলে আমি মরেই যেতাম। আমি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছে অন্যদিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। হামলায় আমাদের ৬০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ আমাদের ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের পেটুয়া বাহিনী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ পুলিশের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আমাদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। আহতদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

তিনি বলেন, ‘হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানো যাবে না। বিএনপি পলায়নপর হবে না। জনগণ ভোট দেবে, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টে তার প্রতিফলন ঘটবে। তা না হলে জনগণ বুঝবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করছে।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি কী করলে আপনারা খুশি হবেন, প্রকাশ্যে বলে দেন। সরকার বলছে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাইছে। আমি বলবো, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বিএনপি নির্বাচন থেকে সরবে না।’

নির্বাচনের পর কী হবে এই মুহূর্তে ভবিষ্যত বাণী করতে চাই না উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজ সেগুনবাগিচায় কাঁচাবাজারে নির্বাচনী প্রচারণা সময় শাহবাগ আওয়ামী লীগের নেতারাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ নিয়ে রমনা ও শাহবাগ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে আমার স্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায়ও হামলা চালানো হয়।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘আমি নির্বাচনী প্রচারণার আগে রমনা থানা ও শাহাবাগ থানায় চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। এমনকি শাহাবাগ থানা আমার চিঠি গ্রহণ করেননি।’

হামলার সময় পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা হামলা প্রতিরোধ করতে আসেনি বলেও জানান ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হামলা-মামলা যতই চলুক, আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাব। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জনগণ অবশ্যই বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে রায় দিবে।’

এদিকে এ হামলার বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, সেগুনবাগিচায় মারামারির সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার শুরু কীভাবে ও শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা জানার পর আমরা বিস্তারিত বলতে পারবো।’