৩০ তারিখ ব্যর্থ হলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হবে: দুদু

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আগামী ৩০ তারিখে সঠিক ভূমিকা পালন করতে যদি ব্যর্থ হই তাহলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে।’

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম মিলনায়তনে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের বুদ্ধিজীবীরা যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, দেশ স্বাধীন করেছিল, যে কারণে তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিল, ৪৭ বছর পরে এসে দেখি সেই যুদ্ধে যে অর্জন, সেই অর্জন পুরোপুরি ধ্বংস করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। দেশে গণতন্ত্র নাই, স্বাধীনতা নাই, ভোটের অধিকার নাই, নিরাপত্তা নাই, কাজের নিশ্চয়তা নাই, কৃষকের ফসলের ব্যর্থ মূল্য।’

কৃষক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য, দেশের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ৩০ তারিখকে ব্যবহার করতে হবে। যদি জনগণ আগামী ৩০ তারিখে সঠিক ভূমিকা পালন না করতে পারে, আমরা ব্যর্থ হই, সত্যিকার অর্থে যদি ৩০ তারিখটা আমরা ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ব্যর্থ হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে।’

বর্তমানে দেশে নির্বাচন করার ন্যূনতম পরিবেশ নাই উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচন করার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলেছে। ন্যূনতম নির্বাচনের পরিবেশ ও অবস্থা এখন নেই। নির্বাচন ঘোষণার শুরুতেই দেশের সব স্থানে হামলা করেছে। প্রার্থীসহ শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিলে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেনি। অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে একটা ব্যবস্থাও নেয়নি।’

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা লজ্জাজনক মন্তব্য করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘গত ১০ বছরে বর্তমান সরকার বিএনপির ওপর গুম-খুন-অত্যাচার-হামলা এমন কোনো অবিচার নাই যে করেনি। কিন্তু বিএনপি সব সহ্য করেছে। বর্তমানে যত হামলা অত্যাচার করছে এর মোকাবেলা করতে হবে। আর এর মোকাবেলা করার দিনটি হয়েছে ৩০ তারিখ। ঐ দিন সবাইকে ঘর থেকে বের হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে লড়াই করতে হয়। ৪৭ বছর পর এসে আমাদেরকেও আরেকটি বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। তার জন্য ৩০ তারিখ উপযোগী সময়। সে দিনেই বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিনা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কবি লেখক ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান প্রমুখ।