সরকার চায় বিএনপি নির্বাচন থেকে বের হয়ে যাক: নজরুল

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া, অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার ও সারাদেশে হামলার মাধ্যমে সরকার চাচ্ছে আমরা নির্বাচন থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু আমরা নির্ভর করি উপরে আল্লাহ আর নিচে জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের নির্যাতন, অত্যাচার, জুলুম, ব্যাংকলুট, শেয়ার বাজার লুট, কানাডায় বেগম পাড়াসহ অসংখ্য ঘটনার কারণে জনগণের আস্থা তাদের প্রতি নাই। তারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আমাদের সঙ্গে পারবে না। সেজন্য চাচ্ছে আমরা যেনো নির্বাচন থেকে সরে যাই।’

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের অর্ডার আছে পরোয়ানা ছাড়া সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি দেখছি, সাদা পোশাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারপর অস্বীকার করা হচ্ছে যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক ধরনের চেষ্টা আরকি নির্বাচন থেকে আমাদের বের করে দেয়ার। আসলে নির্বাচন থেকে বের হয়ে আসার যথেষ্ট কারণ এই সরকার ইতোমধ্যে সৃষ্টি করেছে। উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও সরকারের অধীন নিম্ন আদালতের কারণে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তি পাননি। তার বিচার করার জন্য জেলখানার মধ্যে আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল গাজীপুরের ফজলুল হক মিলনকে, এর আগে রুহুল কুদ্দুস দুলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে এখন আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে না। আমাদের এখন প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে অস্ত্রধারী পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে। মনে হয় তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। অথচ তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। তারা রাষ্ট্রের। কোনো নির্দিষ্ট সরকারের না। এই যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যাবহারের মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো, এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। আইনি অস্ত্রের এতো বেআইনি প্রয়োগ আগে কোথাও হয়েছে বলে জানা নেই।’

দলটির শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘গত কয়েকদিনে দেখলাম- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা হলো, অথচ তারই কর্মীদের নামে মামলা হয়েছে। আজকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামাল হোসেন ও আসম আব্দুর রবের গাড়িতে হামলা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মেরে আহত করা হয়েছে। কালকে হয়তো দেখবেন সেই সব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আরও অজ্ঞাতপরিচয় রাখা হবে ১৫০ জন। যাতে যাকে ইচ্ছে তাকে গ্রেফতার করতে পারে। কোথায় নির্বাচন কমিশন। কোথায় এসব দেখার মানুষ। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, তারা বললেন, প্রধানমন্ত্রী আছেন, মন্ত্রীরা আছেন, এমপিরা আছেন, আমরা কী করতে পারি বলেন।’

‘এই যে প্রতিদিন হামলা এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে এ জন্য আমরা বলতে পারি যে আমরা নির্বাচন বয়কট করলাম। তারা সেটাই চায়। কারণ তারা জানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমাদের সঙ্গে পারবে না। সেজন্য আমাদের সরিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। আমরা বলে দিয়েছি। আমরা নির্ভর করি উপরে আল্লাহর ওপর আর নিচে জনগণের। আমরা সেই চেষ্টা করবো যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। ওপরে যে মার্কাই লাগানো থাকুক, সিলটা তারা ঠিকই মারবে ধানের শীষে।’

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, সাংবাদিক নেতা আব্দুল হাই সিকদার প্রমুখ।