পুলিশি তাড়ায় ধানের শীষ নেই ঢাকায়

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

ঢাকা: বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে মানুষের আস্থা নৌকা ও ধানের শীষেই। বাংলাদেশের বিগত নির্বাচনগুলোর দিকে নজর দিলে এমনটাই চোখে পড়ে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে একতরফা নৌকাই চোখে পড়ে, ধানের শীষের দেখা পাওয়া যেন সোনার হরিণ দেখতে পাওয়ার মতো। নৌকার পক্ষে প্রচুর মাইকিংয়ের আওয়াজ পাওয়া গেলেও, কোনো মাইকই যেন বলছে না ধানের শীষের কথা।

শুক্রবার (১৪ ডি‌সেম্বর) ঢাকার নানা জায়গায় ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবু আশফাক বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় শোডাউন বের করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তি‌নিও তেমন ভা‌বে প্রচার চালা‌চ্ছে না।

ঢাকা-২. ঢাকা-৩, ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি জোটের দৃশ্যমান কিছু প্রচারণায় দেখা গে‌লেও এর বাইরের অধিকাংশ এলাকায় এখনো সেই সেভা‌বে প্রচারণা ও কোনো প্রার্থীর সাদাকালো পোস্টার চোখে পড়ার মতো নয়।

ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। এই আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সমর্থকই বেশি। সুব্রত চৌধুরীকে মাঝে মধ্যে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেই অর্থে এখনো তার পাশে দেখা যায়‌নি। ফলে, এ আসনে বিএনপি তথা ধানের শীষ ভাবটা ফুটে ওঠেনি।

একই অবস্থা ঢাকা-৭ আসনেও। সেখানেও ধানের শীষের প্রতীক দেওয়া হয়েছে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুর হাতে। এই এলাকা বিএনপির মরহুম সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর সমর্থকরাই বেশি।

দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ৮ও ৯ আস‌নে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসকে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়। প্রচারণা চালাতে গিয়ে আফরোজা আব্বাসসহ মহিলা কয়েকজন কর্মী সমর্থক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হাতে নাজেহালও হন। স্বামী-স্ত্রী মিলে বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণ করলেও পোস্টার কিংবা মাইকিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে আছেন তারা।

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন শামীম আরা বেগম। তাকে কোথাও কোথাও লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো শোডাউন দেখা যায়নি।

ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-শিল্পান্চল, হাতির ঝিল আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। গ্রেফতার আতঙ্কে এখনো আটঘাট বেঁধে মাঠেই নামতে পারেননি তিনি। তার কিছু সমর্থক বুধবার মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি পুলিশি তাড়ায়। পুলিলে ভয়ে তার নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে পারছে না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সালাম। তিনি এখনো মোহাম্মদপুর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুই করতে পারেননি। শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে সক্রিয় প্রচারণা শুরু করবেন ব‌লে জানা যায়। বুধবার (১২ ডিসেম্বর) তিনি প্রচারণা চালাতে না পারার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেছেন।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। তিনি বিএনপি নেতা এস এ খালেকের ছেলে। রাজনীতিতে তিনি নতুন। নির্বাচনী এলাকায় পিতার প্রভাব থাকলেও এখনো বড় ধরনের কোনো শোডাউন করতে পারেননি সাজু।

ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো. শফিকুর রহমানের হাতে। তারও কোনো প্রচারণা দৃশ্যমান নেই। জামায়াতের পক্ষ অভি‌যোগ করা হয়, পুলিশ তাদের মাঠে নামতেই দিচ্ছে না।

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। নির্বাচনী প্রচারণার চার দিনেও তার দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।

ঢাকা-১৭ আসনে এবার ধানের শীষের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট এলাকা বেষ্টিত এই এলাকায়ও ধানের শীষের দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা দেখা যায়নি।

ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনকে। তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র। তার আসনে উত্তরা খিলক্ষেত বিমানবন্দর এলাকায় এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রচারণায় দেখা যায়‌নি।

ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের হয়ে লড়ছেন বিএনপি নেতা দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সাভার-আশুলিয়া নিয়ে গঠিত এ আসনেও নেই ধানের শীষের প্রচারণা।

ঢাকা-২০ আসনে ধানের শীষের প্রতীক পেয়েছেন তমিজউদ্দিন। সেখা‌নেও তেমন প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়‌নি।

রাজধানীতে ধানের শীষ প্রতীকে অধিকাংশ প্রার্থীরই অবস্থা প্রায় একই। কেউ কেউ চেষ্টা চালিয়েও মাঠে নামতে পারছেন না। কেউ কেউ মাঠে নামার চেষ্টাও করেননি। আবার কেউ কেউ বলছেন, কৌশলগত কারণে বড় শোডাউন করা যাচ্ছে না।