আসন বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে যেভাবে প্রতারণা করলো জাতীয় পার্টি

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

ঢাকা: নির্বাচনের আগে ইসলামি দলগুলো নিয়ে বৃহত্তম জোট গঠন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জোটে ইসলামি দলের সংখ্যা ছিলো ৫২টি। এরশাদ সবাইকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তারা এককভাবে নির্বাচন করবেন এবং শরিক দলকে সম্মানজনক আসন দিবেন। আর কোনো কারণে মহাজোটে গেলেও তিনি শরিকদের ভুলবেন না। মহাজোটের কাছে তাদের জন্য জাতীয় পার্টির কিছু দাবি-দাওয়া থাকবে। তবে এর কোনো কথায় তিনি রাখেননি। এরশাদ মহাজোটের শরিক হিসেবেই নির্বাচন করছেন এবং শরিকদের জন্য একটি আসনেও ছাড় দেয়নি তার দল।

এরশাদের সঙ্গে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে জোটবদ্ধ হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জোটবদ্ধ হওয়ার পূর্বে এরশাদ এই দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ করে বলেন, ‘আমি জীবনের শেষ সময়ে কয়েকজন আলেমকে সংসদে দেখে যেতে চাই। আসুন! আমরা এক সঙ্গে নির্বাচন করি।’ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাদের দাবি এমন আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

তবে আখেরে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের। অবশ্য এরশাদের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সতর্ক করেছিলেন অনেকেই। এমনকি দলের ভেতরের অনেকেই এরশাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিরোধিতা করেন। কিন্তু দলের নির্বাহী কমিটিতে জোট করার পক্ষের মতটিই গৃহীত হয়।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জাতীয় পার্টির একক ও মহাজোটের অংশিদার হয়ে নির্বাচন করা উভয় সম্ভাবনা সামনে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এরশাদ একক নির্বাচন করলে তারা ৬০ আসনে প্রার্থী দেয়া এবং মহাজোটের শরিক হলে ১০ আসনে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করেছিলো।

আসন বণ্টনের আলোচনার শেষ দিকে এসে তা আরও নেমে চার থেকে পাঁচে দাঁড়ায়। কিন্তু এরশাদ বলছিলো দুই থেকে তিনটি আসন দেয়া হতে পারে। আলোচনা এই পর্যায়ে যাওয়ার আকস্মিকভাবে জাতীয় পার্টি শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ‘রহস্যজনক’ রোগে আক্রান্ত হয়ে সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন।

সে সময়ের চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আসন বণ্টনের শেষ দিকে এসে জাতীয় পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হলো না। আমরাও খানিকটা হতাশ হয়ে গেলাম। এর মধ্যেই জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলো এবং এরশাদ হাসপাতালে ভর্তি হলেন। একের পর এক ঘটনাগুলো এমনভাবে ঘটতে থাকলো যে, আমরা যোগাযোগের সুযোগই পেলাম না অথবা তা অর্থহীন মনে করলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগ ছিলো রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে। আসন বণ্টনসহ সব আলোচনা হয়েছিলো তার সঙ্গেই। তাকে হঠাৎ মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। সুতরাং আলোচনার পথও বন্ধ হয়ে গেলো। আসলে তারা আমাদেরকে নানাভাবে আশ্বস্ত করলেও কোনো কথাই রাখেনি।’

মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এরশাদের দলের সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই শরিকরা বঞ্চিত হয়েছে। শুনেছি, মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগেই মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শেষ পর্যন্ত ৯টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয় এবং সবগুলোই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধতা পায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে ২টি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়। অবশিষ্ট ৭ আসনে নির্বাচন করবে দলটি।

দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, পূর্ণ মনোযোগ দিলে এসব আসনে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। সবগুলো আসনে বিজয়ের সম্ভাবনা সমান না হলেও অন্তত ভোটের ফলকে প্রভাবিত করতে পারবে তাদের সব প্রার্থী। এতেই আগামীর রাজনীতিতে ভালো মূল্যায়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন