সহিংসতা খতিয়ে দেখতে সিইসির নির্দেশ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

ঢাকা : নির্বাচনি প্রচারের সময় সহিংসতার ঘটনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তির পায়তাঁরা কি না খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান সিইসি এসব নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিবইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার বৈঠক শুরু হয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার-ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এবারে নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পরে দুইটি নিহতের ঘটনাসহ হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘এগুলো পেছনে কি একমাত্র রাজনৈতিক কারণ? নাকি সামান্য কারণ নাকি ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো কোনও ভয়াবহ তাণ্ডব ঘটনার মতো কারণ আছে কি-না সেদিকে আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যখন সারা দেশে ব্যাপক উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তখন মানুষের খুনের ঘটনা, হামলার ঘটনা ঘটছে এদিকে আপনাদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। যেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ কোনও সুযোগ না নিতে পারে।’

ইভিএম নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বাক্স ছিনতাইকারীর হাত থেকে ভোটারদের মুক্তি দেয়ার জন্য এবারের নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার। ইভিএম হলো একটি বিকল্প পদ্ধতি যা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে। যে কেন্দ্রগুলোতে ইভিএমের ব্যবহার হবে সে কেন্দ্রগুলোতে সতর্ক ব্যবস্থা ও আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ইভিএম সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এদেশের ভোটের ৮০ শতাংশ অনিয়ম রোধ করা যাবে।’

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের পরিচালক মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদিন, কোস্টগার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মীর শহীদুল ইসলাম উপস্থিত আছেন।