ঘূর্ণিঝড় ‘গাজা’র আঘাতে নিহত বেড়ে ১৩

শনিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

ভারত ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘গাজা’-এর আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ছিলো ১০।শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) প্রায় সারাদিন ধরেই তামিলনাড়ুতে তাণ্ডব চালিয়েছে।

শুক্রবার ভোর রাতে এটি তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনাম ও ত্রিভারুর নামে দুটি জেলায় আঘাত হানে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড় ‘গাজা’র আঘাতে তামিলনাড়ুতে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক কর্মকর্তা জানান, গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং দেয়ালধসেই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাগাপট্টিনম, পুডুকোট্টাই, তিরুভারুর, থানজাভুর এবং কুড্ডালোর জেলা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বড় আকারে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ১ লাখ এবং সামান্যতম আহতদের ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে তিনি এক টুইট বার্তায় জানান, কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে। তিনি বলেন, তামিল নাড়ুর লোকজনের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকর অবস্থা প্রার্থনা করছি।

নাগাপট্টিনম, তিরুভারুর, থানজাভুর, পুডুকোট্টি জেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। নাগাপট্টিনমে ৫০০০ এবং তিরুভারুরে ৪০০০ এবং তাঞ্জাভুরে ৩০০০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। সেখানে অনেক গাছ-পালা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি মেরামত করে এলাকায় বিদ্যুৎ ফেরাতে আরও দু’দিন সময় লাগতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় গাজার আঘাতে বিপর্যস্ত এলাকায় মোবাইল অপারেটরগুলো বিনা মূল্যে কল সুবিধা দিচ্ছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্সের চারটি দল উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন ৯ হাজার উদ্ধারকর্মী।