কারসাজি চক্রের হাতে জিম্মী পুঁজিবাজার!

শনিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

ঢাকা: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা আর কারসাজি চক্রের অপতৎপরতায় উত্তাল পাতাল বিরাজ করছে দেশের পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের পুঁজিবাজার মহাধসের মহানায়করা এখনও সক্রিয়। যার কারণে ধস পরবর্তী সময়ে বাজার বারবার স্থিতিশীলতার চেষ্টা করা হলেও তা আজও স্থায়ী হয়নি।

কারসাজির কবল থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। স্থিতিশীলতার এই চেষ্টায় যখনই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আশায় বুক বাঁধেন, তখনই কারসাজির হোতারা আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

কারসাজির বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু নয় বলে ধারণা করছেন বাজার-বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির এমন আচরণে নতুন করে কেউ বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছে না পুঁজিবাজারে। এছাড়া অস্থিতিশীল বাজারেও ঘন ঘন আইপিও অনুমোদনের কারণে বিএসইসি’র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার বিশ্নেষকরা মনে করেন, সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ জুয়ার শেয়ারে ঝুঁকছে। পাশাপাশি বছরের জুনে আর্থিক হিসাব শেষ হওয়া কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা এবং আর্থিক প্রতিবেদনের কারণে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করেন বাজার-সংশ্নিষ্টরা। ফলে আইসিবির বন্ড বিক্রি এবং ডিএসইর কৌশলগত শেয়ার বিক্রির টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হলেও তার প্রভাব নেই।

দেশের অর্থনীতিতে এ মুহূর্তে বড় কোনো সংকট নেই। চলছে স্বাভাবিক ধারাতে। আবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দুই মাস আগেও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল, তারও অবসান হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে নির্বাচন। কিন্তু এর ইতিবাচক প্রভাব নেই শেয়ারবাজারে। গত জুনের পর এখন পর্যন্ত একদিন বাড়লে পরদিনই পতন হচ্ছে।

গত ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত টানা দরপতন হয়। এরপর গত সপ্তাহের বুধবার দরপতনের ধারা থেকে বের হয়ে আসে বাজার। ঊর্ধ্বমুখী ধারা গত রোববার পর্যন্ত বহাল ছিল। এরপর পুরনো দরপতনের ধারায় ফিরে গেছে বাজার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বাজারের এমন আচরণ বর্তমানে দেশের সার্বিক অবস্থার সঙ্গে মানানসই নয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে অস্থিরতা ছিল, তার অনেকটাই কেটেছে। কিন্তু এর প্রভাব বাজারে নেই। আইসিবির বন্ড বিক্রির টাকা এবং চীনা জোটের কাছে কৌশলগত শেয়ার বিক্রির টাকাও পেয়েছেন ব্রোকাররা। ফলে এ দুই জায়গা থেকে বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু তার প্রভাব নেই।

এর কারণ ব্যাখ্যায় আবু আহমেদ বলেন, সবাই রাতারাতি বড় মুনাফা করতে চায়। সবাই জুয়ার দআইটেমদ (শেয়ার) এর পেছনে ছুটছে। এতে রুগ্ন ও স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে, এমনকি লেনদেনের ওপরের দিকে উঠে এসেছে। আবার বোনাস শেয়ারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক শেয়ারের দর সংশোধনও বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন তিনি।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী মনে করেন, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং একসঙ্গে সব কোম্পানির প্রান্তিক হিসাব প্রকাশই বর্তমানের নিম্নমুখী ধারার প্রধান কারণ। কিছুদিন আগে জুনে আর্থিক হিসাব শেষ হয়- এমন কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা হয়েছে। এখন ওই লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট চলছে। এতে শেয়ারগুলোর দর সংশোধন হচ্ছে।

আবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তৃতীয় প্রান্তিক এবং উৎপাদন ও সেবামুখী খাতের কোম্পানিগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। অনেকে পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারছেন না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেনদেনে। শিগগিরই বাজার আবার ইতিবাচক ধারায় আসবে- এমনটাই আশা করছেন তিনি।