যেভাবে ইসির নির্দেশ লঙ্ঘন করলো জন প্রশাসন

বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

ঢাকা: প্রশাসনে বদলি,পদোন্নতি এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না; এমন নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি দেয়ার একদিন পরই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ইকোনমিক ক্যাডার এবং প্রশাসন ক্যাডার একীভূত করেছে সরকার। মঙ্গলবার এ দুই ক্যাডার একীভূত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি অনুমোন দেয়া হয়। অথচ ১১ নভেম্বর আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি না করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মন্ত্রিপরিষদকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভোটের ফলাফলের গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিন পর্যন্ত কাউকে বদলি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন বলেছে, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ এবং আরপিও’র ৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের কাজে সহায়তা দেওয়া সব নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পাওয়ার পরে অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইসির অধীনে প্রেষণে আছেন বলে গণ্য হবে। এছাড়াও আরপিও’র ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়সূচি জারি হওয়ার পর থেকে ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ইসির অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি না করার বিধান রয়েছে। নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত যাতে তাদের অন্যত্র বদলি বা ছুটি দেওয়া না হয় অথবা নির্বাচনী দায়িত্ব ব্যাহত হতে পারে এমন কোনো কাজে নিয়োজিত না করা হয় তা নিশ্চিত করতে সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ, সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে পরিপত্রের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনে রদবদল ও ছুটির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ ইসির নির্দেশকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুরে ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসনে একীভূত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রজ্ঞাপন ইসির আদেশ-নিষেধকে পাত্তা না দেয়ার লক্ষণ বলেই মনে করছেন তারা।