খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে আদেশ বৃহস্পতিবার

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে কারাগারে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে পাঠানোর আর্জি জানিয়ে করা রিট আবেদনের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত দেবেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) ওই রিট আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রবিবার হাইকোর্টে ওই রিট আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী নওশাদ জমির।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

শুনানি শেষে কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শেষ না করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এই যুক্তিতে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।’

একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে কেন পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে না- তা জানতে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। স্বরাষ্ট্রসচিব, কারা কর্তৃপক্ষ, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষসহ নয় জনকে সেখনে বিবাদী করা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। এর পর থেকেই তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

এর পর এক রিট আবেদনের নিষ্পতি করে গত ৪ অক্টোবর বেগম জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই মোতাবেক গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ নেয়া হয়।

একমাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পর গত ৮ নভেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি হাজির করতে বেগম জিয়াকে আদালতে নেয়া হয়। ওই দিনই পুনরায় তাঁকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

ওইদিনই সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন ‘যথেষ্ট স্থিতিশীল’। তাঁর আপাতত হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই।

তবে বিএনপি বরাবরই দাবি করে আসছে, বেগম জিয়া গুরুত্বর অসুস্থ। তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া দরকার। গতকাল সোমবার কারাগারে বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার পথে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বেগম জিয়াকে গত ৭ দিন ধরে থেরাপি দেয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সরকার দেশনেত্রীকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।