ডায়াবেটিস থাকলেও খাওয়া যাবে মিষ্টি ফল!

বুধবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বর্তমানে ডায়াবেটিসে ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধি। অগ্ন্যাশয় থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে অথবা দেহকোষ ইনসুলিন প্রতিরোধী হয়ে উঠলে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।

বলা বাহুল্য যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে খাদ্য তালিকায় দিতে হয় বিশেষ নজর। আর মিষ্টি খাবার ও ফলের প্রসঙ্গ এলে ডায়াবেটিস রোগীরা পড়েন বিপাকে।

যদি বলা হয়, ডায়াবেটিস হলেও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে তাহলে একটু অবাক হওয়ারই কথা ! তবে হ্যাঁ, গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) খুব কম রয়েছে এমন ফল পরিমিত খেলে তাতে ক্ষতি নেই। এতে করে রক্তে অতিমাত্রার শর্করা রোধ করা সম্ভব হবে। জেনে নিন, কোন মিষ্টি ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ।

পেঁপে

পেঁপেতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ডায়াবেটিসের রোগীরা আক্রান্ত হতে পারেন হূদরোগে। হতে পারে স্নায়ুর ক্ষতি। সেদিক থেকে পেঁপে কোষের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করে ও সুরক্ষিত রাখে দীর্ঘদিন।

পেয়ারা

স্ন্যাকস হিসেবে ফলটি তুলনাহীন। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।

বেদানা

বেদানায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফ্রি রেডিক্যালস ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থেকে শরীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ফলটি। দানাদার এ ফল ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানে সমৃদ্ধ।

তরমুজ

প্রচলিত ধারণা মতে, এটি চিনিবহুল ফল। জেনে নিন, গ্রীষ্মকালীন এ ফল ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের কিডনির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে। কিডনির কার্যপ্রণালি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল তরমুজ। লাইকোপেন থাকায় এটি ডায়াবেটিসের রোগীদের স্নায়ুর ক্ষতি হতে দেয় না।

আপেল

টাইপ-টু ডায়াবেটিসের জন্য খুবই উপকারী ফল এটি। দিনে একটি আপেল খেয়ে অন্যান্য রোগবালাইসহ ডায়াবেটিসকে রাখুন আপনার কাছ থেকে বহু দূরে।

আঙ্গুর

আঙ্গুরে রয়েছে রেসভেরাট্রল নামক এক প্রকার ফাইটোকেমিক্যাল। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে আঙ্গুর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্যও উপাদেয়।

স্ট্রবেরি

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ফল স্ট্রবেরি। এতে জিআইয়ের পরিমাণ খুব কম। ক্যান্সার প্রতিরোধক মিষ্টি এ ফল বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি সাধন করে ও ওজন হ্রাস করে।

সাইট্রাস ফল

ডায়াবেটিসে সাইট্রাস ফল খেতে বাধা নেই। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে বলে কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, লেবু ইত্যাদি শরীরে রোগ প্রতিরোধ করায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। (সূত্র: এভরিডে হেলথ)