বগুড়া জেলা পরিষদে তালা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া জেলা পরিষদের হিসাব শাখা ও হেল্প ডেস্ক কক্ষে তালা ঝোলানো হয়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেনের সঙ্গে সদস্যদের বিরোধের জেরে এ তালা ঝোলানো হয়। আর এ তালা ঝোলান জেলা পরিষদ সদস্য সুলতান মাহমুদ খান রনি।

অপরদিকে অফিসে তালা দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) কাজ বন্ধ করে করিডরে অনশন করে কর্মচারীরা। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ছয় কোটি টাকা বণ্টন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সদস্যদের বিরোধ চলে আসছিল।

বগুড়া জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার উচ্চমান সহকারী শফিকুল ইসলাম বাদশা জানান, সোমবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ সদস্য সুলতান মাহমুদ খান রনি অফিসের কর্মচারীদেরকে বের করে দিয়ে হিসাব শাখা এবং হেল্প ডেস্ক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। মঙ্গলবার কর্মচারীরা অফিসে এসে বিষয়টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি তাদের করিডরে বসে থাকতে বলেন। এরপর অন্যান্য শাখার কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে একত্রিত হয়ে করিডরে অনশন শুরু করে।

জেলা পরিষদ সদস্য সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গরির দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সেলাই মেশিন বিতরণ করা যাচ্ছে না। গত তিন অর্থবছরে এক হাজারের বেশি গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান বিতরণ করা যায়নি।

তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা নীতিমালা অনুযায়ী বিতরণ করার জন্য সকল সদস্যরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে তাগিদ দিলেও তিনি তার নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করছেন। এ কারণেই অফিসে তালা ঝোলানো হয়েছে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৬ কোটি টাকা তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। সদস্যদেরকে ২ কোটি, এমপিদের নামে ২ কোটি এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নামে ২ কোটি টাকা। কিন্তু সদস্যরা তা মানতে নারাজ। তবে নীতিমালার বাইরে কোনো কাজ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।