আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছে না শতাধিক এমপি!

শনিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

ঢাকা:  সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মনোনয়ন পেতে দৌড় ঝাঁপ করছেন দলটির নেতারা। তবে মনোনয়ন দিতে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই সবকিছু সরাসরি মনিটরিং করছেন।

জানা গেছে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শতাধিক এমপি মনোনয়ন ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুক্রবার দলের যৌথসভাতেও শেখ হাসিনা তার ইঙ্গিত দেন, ‘সব নির্বাচনী আসনের দলীয় সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিষয়ে সকল জরিপ তার হাতে এসেছে।’

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী এলাকা ও সাংসদদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে করা একাধিক জরিপ প্রতিবেদন তার কাছে আছে। এসব প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্তত ৭০ জন এমপির অবস্থা ভালো নয়। যে সংখ্যা আরো বাড়তেও পারে।

শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, ‘যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশী নিজেকে জাহির করতে দলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন বা এমপিরা নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে দলের ক্ষতি করেছেন, তাদের রিপোর্টও আমার কাছে আছে।’ যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী এও জানান, শুক্রবার ফযর নামাযের পর ২০টির মতো গোয়েন্দা ও জরিপ রিপোর্ট খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। আগেও তিনি ৬০ থেকে ৭০টির মতো রিপোর্ট দেখছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, এমপি আছেন, এমন শতাধিক নেতার আমলনামা সুবিধাজনক নয়। তাদের মনোনয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেগেটিভ। বিষয়টি ইতোমধ্যে অনেককে জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বার্ধক্য, অসুস্থ, দলের নেতাকর্মীদের বিরাগভাজন এবং এলাকায় যেতে পারেন না, এমন কিছু এমপিও বাদ পড়ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কাউকে মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হলেও যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কেউ পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে বিরোধিতা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। অতীতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তি দিয়ে ক্ষমা করা হয়েছে। এবার আর তা করা হবে না।

মনোনয়ন বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবরই বলে আসছেন, তারা উইনেবল ক্যান্ডিডেট খুঁজছেন। তিন মাস অন্তর জরিপ ও গোয়েন্দা রিপোর্ট হচ্ছে। এর ভিত্তিতেই উইনেবল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে। তার ভাষ্যে, ‘যারা ঘরের ভেতর ঘর, মশারির ভেতর মশারি তৈরি করে অর্থাৎ দলীয় কোন্দল করে, তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না।’