ডিজিটাল আইন হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক : দুদু

শুক্রবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তা‌রেক রহমানকে দে‌শে ফি‌রি‌য়ে আনা হ‌বে গতকাল সংস‌দে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যর কড়া সমালোচনা ক‌রেছেন বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি ব‌লে‌ছেন, ‘আপ‌নি (শেখ হাসিনা) তা‌রেক রহমানকে দেশে ফি‌রি‌য়ে আনার কে? আমরা তা‌কে দে‌শে ফি‌রি‌য়ে আন‌বো। সে যখন দে‌শে ফির‌বেন তখন আপ‌নি দে‌শে থাক‌তে পার‌বেন কিনা চিন্তা ক‌রেন।’

শুক্রবার (২৬ অ‌ক্টোবর) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউনি‌টির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের ১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া ফরমায়েশি রায় বাতিল এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চলমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষনেতা আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য, রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য দেশের দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার জন্য। সুষ্ঠু নির্বাচন দিন, তিনি দেশে ফিরে আসবেন। আপনি কিসের জন্য ফিরিয়ে আনবেন? আমরাই তো তাকে ফিরিয়ে আনব। আপনি ফিরিয়ে আনার কে? তিনি দেশে ফিরে আসলে আপনি দেশে থাকতে পারবেন কিনা সেই চিন্তা করেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি পদত্যাগ করেন। আপনি সকল সমস্যার কেন্দ্র-বিন্দুতে দাঁড়ি‌য়ে আ‌ছেন। কিছু আওয়ামী লীগের চোরাই এমপি ছাড়া আপনার নেতৃত্ব যে ভালো হবে দেশবাসী এটা মনে করে না। তাই আপনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে আসেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিন। এ পার্লামেন্ট চোরাই পার্লামেন্ট, এই পার্লামেন্ট ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পার্লামেন্ট, এই পার্লামেন্টের কোনো যোগ্যতা নেই। এই পার্লামেন্ট যতদিন থাকবে জাতির সম্মুখে ততো সমস্যা থাকবে। সেজন্য এ পার্লামেন্ট ভেঙে দিন, দেখবেন- দেশের সকল সমস্যার সমাধান হবে, সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে দুদু বলেন, ‘ডিজিটাল আইন হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক, সংবিধানবিরোধী। এই আইনের কারণে মুক্তিযোদ্ধা অপমানিত হয়েছে, ত্রিশ লক্ষ শহীদকে অপমান করা হয়েছে। দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনকে অপমান করা হয়েছে।ডিজিটাল আইনে মানুষের অধিকার, চিন্তা-বলা-লেখার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তি‌নি যে কথা বলেছেন তার জন্য পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে তার সাথে পুলিশ ও বিচার বিভাগ যে আচরণ করেছে সেটা অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেয়া হয়েছে। এসব করে যদি আওয়ামী লীগ ভাবে তারা আবার ক্ষমতায় আসবে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’

আওয়ামী লীগ এখন জনগণকে বিশ্বাস করতে পারছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণকে বিশ্বাস করতে পারছে না, যে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে। এজন্য তারা ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে। জনগণ ভোট দেবে ধানের শীষে তা চলে যাবে নৌকায়। ইভিএম পদ্ধতি চালু করার উদ্দেশ হচ্ছে ভোট চুরি করা।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক জীবন বর্ণনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের গর্ব, জাতির গর্ব, সারা বাংলাদেশের গর্ব, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এমন কোনো বিশেষণ নাই যা তার নামের সাথে যুক্ত করলে বেমানান হবে। তাকে আটকে রেখেছে গত ৮ টি মাস। যে অভিযোগ করা হয়েছে ২ কোটি টাকার সেই ২ কোটি এখন ছয় কোটি হয়েছে। সেই টাকা এখনও ব্যাংকে আছে কিন্তু তারপরও তাকে সাজা দেয়া হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে, শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে। বেগম খালেদা জিয়া বাহিরে থাকলে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে পরাজিত না করতে পারে সেজন্য তাকে জেলে রাখা হয়েছে।’

এ সময় তিনি সকলকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সকলকে রাস্তায় নামতে হবে। কারণ, বেগম জিয়া মুক্ত হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।’