এবার #মি টুর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় #হিম টু!

সোমবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে নারীদের যৌন হেনস্তার শিকার নারীরা সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার প্রকাশ করছেন #মি টু লিখে। ক্যাথলিক চার্চের কড়া বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার নানা প্রান্তের অত্যাচারিত সন্ন্যাসিনীরা গড়ে তোলেন এই আন্দোলন #মি টু।

প্রায় ১০ বছর আড়ালে থাকা সাবেক মিস ইন্ডিয়া তনুশ্রী দত্ত সম্প্রতি অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও হামলার অভিযোগ এনে ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলনের সূচনা করেন।

এরপর থেকেই করে বলিউডে #মি টুর প্রভাব পড়ে ব্যাপকভাবে। চলচ্চিত্রের নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা থেকে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হচ্ছে সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

বিশ্বজুড়ে যখন #মি টু নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন এর বিপরীতে আরেকটি আন্দোলন মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে যার নাম দেয়া হয়েছে #হিম টু। নারীদের পরেই এবার পুরুষেরা বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে চালু করেছেন এই #হিম টু।

#মি টুর মত এই #হিম টুর আত্মপ্রকাশ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হিসেবে ব্রেট কাভানিকে নিয়োগ দেন তখন থেকে এর সূত্রপাত ঘটে।

কাভানির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের দিনেই পিটার হ্যানসন নামের এক ব্যক্তির মা অনলাইনে একটি পোস্টে লেখেন, #মি টু-এর জোয়ারে এখন ডেটিংয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন পিটার! তিনি মনে করছেন, এতে করে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তার ৩২ বছর বয়সী ছেলের।

হ্যানসনের মা পোস্টে লেখেন, ‘#হিম টু’। যেখানে তার ছেলের একটি ছবিও দিয়েছেন তিনি।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে অনেকেই #মি টুর পাল্টা একটি প্রচারণা হিসেবে দেখতে থাকেন। আবার অনেকেই এটিকে মশকরা করার জন্য করা হয়েছে বলেও বলেছেন।

অন্যদিকে পরে হ্যানসন তার মায়ের অবস্থানের বিরোধীতা করে বক্তব্য দিয়েছেন। মায়ের মতের বিরোধিতা করে হ্যানসন লিখেছেন, আমি কখনোই #হিম টু বিষয়টিকে সমর্থন করি না, করবও না।

অবশ্য পিটার হ্যানসনের মা #হিম টু আবিষ্কার করেননি। কাভানির নিয়োগ নিয়ে হই-হট্টগোলের সময়ই এর আবির্ভাব। মূলত কাভানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা নারী ও তাঁর সমর্থকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত #হিম টু।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ক্লারা উইলকিনস বলেন, ‘পুরুষেরা মনে করেন, নারীরা জিতলে তাঁরা হেরে যান।’ কিছু গবেষণালব্ধ তথ্যের বরাত দিয়ে ক্লারা মনে করেন, বর্তমানে মার্কিন পুরুষেরা আগের চেয়ে ঢের বেশি পক্ষপাতিত্ব করছেন।