সাফজয়ীদের সামনে চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

ঢাকা: সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা নিয়ে গতকালই ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশ দল। আজ বিশ্রামে থাকছেন দলের সদস্যরা। কাল থেকে ফের অনুশীলনে নামছেন কৃষ্ণা রানী-সিরাত জাহান স্বপ্নারা।

সামনে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাই, অলিম্পিক বাছাই ও সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন চ্যালেঞ্জ। তা মোকাবেলায় হাতে থাকা প্রতি মুহূর্ত কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ কারণেই একদিনের বিশ্রাম শেষে ফের প্রস্তুতি শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইয়ে ‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও তাজিকিস্তান। তাজিকিস্তানের দুশানবেতে ২৪ থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি’ গ্রুপের খেলা। ৪ থেকে ১৩ নভেম্বর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে টোকিও অলিম্পিক নারী ফুটবল বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপের খেলা। স্বাগতিক মিয়ানমার ছাড়াও গ্রুপে প্রতিপক্ষ ভারত ও নেপাল।

১৭-২৬ ডিসেম্বর শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরের ‘এ’ গ্রুপে গতবারের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশের সঙ্গী নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। অন্য গ্রুপে ভারতের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ও স্বাগতিক শ্রীলংকা।

উল্লিখিত তিনটি আসরকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, ‘তিনটি প্রতিযোগিতাই বেশ কঠিন হবে। কারণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে, তাজিকিস্তান, মিয়ানমারের মতো দলগুলো আমাদের চেয়ে এগিয়ে। তাদের হারিয়ে মূলপর্বে যেতে হলে ভালো খেলতে হবে। আমাদের জন্য ইতিবাচক হচ্ছে, মেয়েরা উন্নতির ধারায়ই আছে।’

ভুটান থেকে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ শিরোপা নিয়ে ফেরা দলটাই তাজিকিস্তান যাবে। ইনজুরির কারণে হয়তো এক-দুটি পরিবর্তন আসতে পারে দলে। ওই আসরের পাশাপাশি সিনিয়র জাতীয় দলের প্রস্তুতিও চলবে। অলিম্পিক বাছাই ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে সিনিয়র দল।

‘সাফে মেয়েদের নৈপুণ্যে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। ম্যাচে টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল পরিবর্তনগুলো দ্রুত ধরতে পারছিল মেয়েরা। আগামী দিনে ভালো করতে হলে উন্নতির ধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে’— নিজ দল সম্পর্কে বলছিলেন বাংলাদেশ কোচ। যোগ করেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বমানের দল। তাদের সঙ্গে লড়াই করতে হলে আমাদের সব বিভাগে উন্নতি করতে হবে। উন্নতি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। চাইলে একদিনেই সব বদলে দেয়া যাবে না। আমাদের মেয়েরা যেভাবে উন্নতি করছে তা সন্তোষজনক।’

গেল আগস্টে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা বাংলাদেশ পরের মাসে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ প্রাক বাছাই খেলেছে। ওই দলের ১৩ ফুটবলার সদ্যসমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন। ওই ১৩ ফুটবলারের জন্য তিন মাসের মধ্যে চতুর্থ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাই।

‘হ্যাঁ, আমরা টানা খেলার মধ্যেই আছি। একের পর এক প্রতিযোগিতায় খেলছি। আসলে উন্নতি করতে হলে এমন ধারাবাহিকভাবেই খেলতে হবে’— বলছিলেন বাংলাদেশ দলের ফরোয়ার্ড আনুচিং মোগিনি। খাগড়াছড়ি থেকে উঠে আসা এ ফরোয়ার্ড যোগ করেন, ‘ব্যস্ত সূচির মধ্যে ফুটবলারদের সুরক্ষাটা জরুরি। আমাদের ইনজুরিমুক্ত রাখতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছেন কোচিং স্টাফরা। তাই টানা খেলার ধকলটা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারছে না।’

সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কৃষ্ণা রানী-সাবিনা খাতুনরা দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেললেও অভিজ্ঞ ভারতের কাছে হেরে যায়। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলে কৃষ্ণা রানী-মারিয়া মান্ডা-মনিকা চাকমারা এখন আরো পরিণত। দলের কাছ থেকেও প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রথম সাফ মুকুট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ।

তার আগে এশিয়া অঞ্চলের অলিম্পিক বাছাইয়ে নামছে লাল-সবুজরা। আসরগুলোয় ফলাফল যা-ই হোক, বাংলাদেশ কোচের লক্ষ্য উন্নতির ধারায় থাকা; দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা। তা করতে পারলে সাফল্য এমনি আসবে বলে মনে করেন এ কোচ।